১৪২ কোটি টাকার হিসাব অনিয়মের অভিযোগ
গাউসুল আজম সুপার মার্কেট সমবায় সমিতির নিরীক্ষা নিয়ে টেস্ট অডিট দাবি
রাজধানীর নীলক্ষেতের গাউসুল আজম সুপার মার্কেট দোকান মালিক ব্যবসায়ী বহুমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ওপর সমবায় বিধি অনুযায়ী টেস্ট অডিট পরিচালনার আবেদন জানানো হয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল আহমেদ জসিম জেলা সমবায় অফিসার, ঢাকা বরাবর দাখিল করা এক লিখিত আবেদনে এ দাবি জানান। তিনি সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ (সংশোধিত ২০২০) এর ১০৫ বিধি অনুযায়ী নিরীক্ষা প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও সঠিকতা যাচাইয়ে টেস্ট অডিট সম্পাদনের অনুরোধ করেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ থেকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে পরবর্তীতে সভাপতি মোতালেব মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগ দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি অনুযায়ী, ওই সভায় তার স্বাক্ষর জোর করে নেওয়া হয় এবং একাধিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ও তার স্ত্রী জেলা সমবায় অফিসার, ঢাকা বরাবর একাধিক অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: যানজট নিরসনে মানা হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা
তিনি বলেন, তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে এখনো সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বৈধ অবস্থানে রয়েছেন। আবেদনে আরও বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে কো-অপ্ট সম্পাদক হিসেবে মো. লুৎফুর রহমানের স্বাক্ষরে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন সম্পাদন করা হয়েছে, যা তিনি সমবায় বিধিমালা অনুযায়ী অবৈধ ও বিধি পরিপন্থী বলে দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সমিতির দীর্ঘদিনের আর্থিক ও প্রশাসনিক তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। বিশেষ করে প্রায় ২৫ বছরের নিরীক্ষা পর্যালোচনায় সদস্য অন্তর্ভুক্তির দলিল, শেয়ার মূল্য এবং জমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাব বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্যমতে, এসব হিসাবের আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১৪২ কোটি টাকার মতো।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে খুলবে শহীদ জিয়া শিশু পার্ক
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৫ মে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় তাকে সম্পাদক হিসেবে উপস্থিত দেখিয়ে বিভিন্ন হিসাব উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে ওই দিন তাকে তার বাসায় জিম্মি অবস্থায় রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, উক্ত সভায় ১৯৭ জন সদস্য উপস্থিত দেখানো হলেও বাস্তবে উপস্থিতি ছিল অল্প কয়েকজন। অধিকাংশ সদস্যের স্বাক্ষর পরবর্তীতে জাল করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।আবেদনপত্রে বলা হয়, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে হিসাব সহকারী হিসেবে আলাউদ্দিন নামের একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলেও তিনি সমিতির কোনো অনুমোদিত স্টাফ নন। তিনি সভাপতির আত্মীয় বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া সমিতির এজিএম অনুমোদিত কোনো সার্ভিস রুলস নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কো-অপ শপের একটি দোকান ঘর বন্ধ দেখানো হলেও পরবর্তীতে সেটি ছয় ভাগে বিভক্ত করে সদস্যদের কাছে দলিলমূল্যে বিক্রি করা হয়, যা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আবেদনে বলা হয়, ৪১ জন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত দেখানো হলেও তাদের শেয়ার বা দলিল মূল্য সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একইভাবে মকবুল নামের একজন সদস্যকে দলিলবিহীন অবস্থায় সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী নিরীক্ষা বর্ষে অনিয়মের অভিযোগে ১০৫ বিধি অনুযায়ী টেস্ট অডিটের সুপারিশ থাকলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।সবশেষে তিনি সমবায় বিধি অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ওপর টেস্ট অডিট সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে জেলা সমবায় অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, তাকে পাওয়া যায়নি।





