শেরপুর ও কিশোরগঞ্জে মাদক অভিযোগে ১৩ বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
মাদক বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শেরপুর ও কিশোরগঞ্জে ১৩টি বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের বয়ড়া গ্রামে আমিনুল ইসলাম বদরের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। এ সময় আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে চলে যায় পরিবারটি। আগুন নেভাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে দমকলকর্মীরা ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: কুবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা, আহ্বায়ক শুভ, সদস্য সচিব বাশার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যবয়ড়া হাজি বাড়িতে বসবাসকারী আমিনুল ইসলাম বদরের (৭০) বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিষেধ করার পরও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে কয়েকশ মানুষ তার বাড়িতে হামলা চালায়। পরে ঘর থেকে পরিবারের সদস্যদের বের করে দিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
তবে বদরের স্ত্রী শরিফা ও মেয়ে সখি দাবি করেন, গত এক মাস ধরে বদর মাদক বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। এরপরও তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: বড়লেখায় আ:লীগের আমলের মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেফতার
ভাতশালা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে তিনি অনিচ্ছুক, কারণ এতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জামিল উদ্দীন খাঁন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধার মুখে পড়ায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় দমকল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। তবে শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই দিনে কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রাম ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগে আরও ১২টি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
জুমার নামাজের পর মুসল্লি ও এলাকাবাসী এসব হামলা চালান বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলেও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় রেললাইনের পাশে কয়েকটি ঘরবাড়ি ভেঙে ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মধ্যপাড়ায় জোসনা আক্তারের দোতলা ভবনেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের কারণে এলাকায় অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় বেড়েছে। মাদকসেবীদের কারণে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তারা।
যশোদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজন জানান, দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব ঘটনা চলে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অন্তত ১২টি বাড়িঘর হামলার শিকার হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।





