কাঁঠালের রাজ্যে ভালুকা
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় এ বছর কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার কাঁঠাল উৎপাদনের জন্য পরিচিত হবিরবাড়ী, বাটাজোর ও মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছভর্তি কাঁঠাল দেখা যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত আর্দ্রতার কারণে গত বছরের তুলনায় ফলন যেমন বেড়েছে, তেমনি কাঁঠালের আকারও বড় হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
শনিবার সকালে সরেজমিনে উপজেলার হবিরবাড়ী ও বাটাজোর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য কাঁঠালের স্তূপ। ভোর থেকেই আশপাশের গ্রাম থেকে কৃষকেরা ভ্যান, রিকশা ও ঠেলাগাড়িতে করে কাঁঠাল নিয়ে আসছেন। বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা কাঁঠালের সুবাস। পাইকারি ক্রেতারাও বিভিন্ন জেলা থেকে এসে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন
কাঁঠালের পাইকার আব্দুল লতিফ ফকির বলেন, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, মুন্সিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভালুকার কাঁঠালের চাহিদা রয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামের কৃষক হায়দার খান ও সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও মাটিতে পর্যাপ্ত রস থাকায় কাঁঠালের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। অধিকাংশ গাছে প্রচুর ফল ধরেছে এবং কাঁঠালের আকারও তুলনামূলক বড়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন রিদুয়ান সিদ্দিকী
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভালুকার সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট বসে হবিরবাড়ী বাজারে। এ ছাড়া বাটাজোর, কাচিনা, মল্লিকবাড়ী, পোনাশাইল, পারুলদিয়া, আশকা, মাস্টারবাড়ী ও ভরাডোবাসহ বিভিন্ন স্থানে মৌসুমজুড়ে কাঁঠালের হাট বসে। এসব বাজারে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল কেনাবেচা হয়।
তবে উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হবিরবাড়ী এলাকার কয়েকজন কাঁঠালচাষী বলেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল পচে নষ্ট হয়। সরকারি উদ্যোগে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হলে চিপস, জুস, কেক ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকেরা বেশি লাভবান হতে পারেন।
সোনার বাংলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আফজাল হোসেন বলেন, কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার বাজারসংলগ্ন সড়কের অবস্থাও অনেক জায়গায় খারাপ। ফলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পান না। দাম কমে গেলে অনেকেই কাঁঠাল চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভালুকায় প্রায় ২ হাজার ২০০ একর জমিতে কাঁঠাল উৎপাদন হয়। প্রতি বছর প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, ভালুকার হবিরবাড়ী ও মল্লিকবাড়ী এলাকায় সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয়। কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কাঁঠাল থেকে চিপস, আচার, মোরব্বা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদনের বিষয়ে গবেষণা চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হবেন এবং কাঁঠাল চাষে আগ্রহ বাড়বে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কাঁঠালভিত্তিক শিল্প ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে শুধু কৃষকের আয়ই বাড়বে না, জাতীয় ফল কাঁঠালের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও আরও বিস্তৃত হবে।





