বৃষ্টিতে ঘরের মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ডুবে ৮ মাসের শিশুর মৃত্যু

Sanchoy Biswas
মো. গোলাম কিবরিয়া, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩০ অপরাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহে ঘরের মেঝেতে জমে থাকা পানিতে পড়ে ৮ মাস বয়সী আয়াস নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশু আয়াস তার মায়ের সঙ্গে খাটে শুয়েছিল। খাট থেকে গড়িয়ে পড়ে মেঝেতে জমে থাকা পানিতে পড়ে শিশুটি গুরুতর আহত হয়।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। পরে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি: ১১ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ ২

নিহত ৮ মাস বয়সী শিশু আয়াস নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকার আবির মিয়ার ছেলে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুজাউদ্দিন শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: বান্দরবানে পাহাড়ধসে বন্ধ যোগাযোগ, হিল ভিডিপির তৎপরতায় সচল সড়ক

টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাত থেকে বৃষ্টির পানি জমে প্রধান সড়ক, হাসপাতাল, অলিগলি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার অনেক অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড়, কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেকের বসতঘরে পানি ওঠায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে উঠে আসায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অতীতেও একই ধরনের বৃষ্টিতে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

নিহত শিশুর মামী রুমানা আক্তার বলেন, সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে আবিরের ঘরের মেঝেতে পানি উঠে যায়। ঘটনার সময় শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে ঘুমাচ্ছিল। হঠাৎ শিশু আয়াস গড়িয়ে মেঝেতে জমে থাকা পানিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই মো. সুজাউদ্দিন বলেন, শিশুটিকে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। শিশুটি মারা যাওয়ার পর স্বজনরা হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ নিয়ে যান।