ভারীবর্ষণে বেড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের চরম দুর্ভোগ
কয়েকদিনের চলা সারাদেশের টানা ভারীবর্ষণের ফলে পাবনার বেড়া উপজেলায় নিম্ন আয়ের খেটে-খাওয়া শ্রমিক কর্মজীবি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে চরম বিপাকে । সারাদিন ভারী বর্ষণের কারণে স্থানীয় হাটবাজার গুলোতে কোনো মালামাল আমদানি রফতানি হচ্ছে না যার ফলে হাট বাজারগুলোতে লোকসমাগম নেই বললেই চলে। অপরদিকে দিনমজুর এবং কৃষি কাজের উপরে জড়িত শ্রমিকরা ক্ষেত খামারে কাজ করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবতার জীবনযাপন করছেন। অনেককেই পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিকটস্থ হাটবাজার গুলোতে কর্মের সন্ধানে গেলেও কাজ না পেয়ে হতাশা হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন বলে সরেজমিনে অনেক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়। চর নাকালিয়া গ্রামের দিনমজুর আলাল উদ্দিন জানান, বিগত পাঁচদিন ধরে চলা বৈরী আবহাওয়ায় তিনি পরের খেতে কাজকাম করতে পারছেন না।আজ রোববার সকালে এসেছেন নাকালিয়া ঘাটে কুলির কাজ করার জন্য। অতি বৃষ্টির কারণে ঘাটে অল্প কিছু নৌকা ভিড়লেও,মালামাল আমদানির নৌকা নাই বললেই চলে।বাধ্য হয়ে কাজ না পেয়ে হতাশা হয়ে খালি হাতে বাড়ি চলে যান তিনি । কথা হয় ভ্যান চালক মোজাম্মেলের সাথে তিনি জানান, এমনিতেই বৃষ্টির দিনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ভ্যান গাড়িতে চড়ে না। তাই পেটের তাড়নায় তখন অনেক ভ্যানচালক পলিথিন নিয়ে বের হয়! কিন্তু বিগত কয়েকদিনের লঘুচাপের কারণে ইচ্ছে থাকা সত্বেও শুধু আমি নই অনেক ভ্যানচালক নিরুপায় হয়ে বাড়িতে বসে আছেন।চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা বলেন,
সারাবছরই চরাঞ্চলের মানুষের কমবেশি দুর্ভোগ লেগেই থাকে! তবে বর্ষা এবং ভারী বর্ষণের দুর্ভোগের কথা বলে শেষ করা যাবে না। চরাঞ্চলের সদ্য তিল কেটে জাগ দেওয়া সমস্ত তিল কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ায় নষ্ট হয়ে পঁচে গেছে। এতে আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষক।সেইসাথে রাজধানী ঢাকা সহ আশপাশের জেলা শহরে থাকা অনেক কর্মজীবি মানুষ কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে কর্মের উদ্দেশ্যে তাদের গন্তব্য স্থানে যেতে না পেরে গৃহ বন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে তিনি এ প্রতিবেদকে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরে প্রশাসনিক সংস্কার: ২ বছরে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অভূতপূর্ব সাফল্য





