হত্যা-ধর্ষণ, পুলিশ অ্যাসল্টসহ ১৫ মামলার আসামি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুর্ধর্ষ ডাকাত শফিক ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেপ্তার
হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, পর্নোগ্রাফি, র্যাব ও পুলিশের ওপর হামলা এবং চুরিসহ মোট ১৫টি মামলার আসামি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বহুল আলোচিত দুর্ধর্ষ ডাকাত শফিককে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব জানায়, গত ১১ মে বিকেলে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি গোয়েন্দা দল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নবীনগর এলাকায় গেলে খাগাতুয়া বালিয়ারা গ্রামে পৌঁছামাত্র শফিক ডাকাত ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মারধরে গুরুতর আহত র্যাব সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে হামলাকারীরা এবং কয়েকজন সদস্যকে একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। পরে র্যাবের একটি শক্তিশালী দল স্থানীয় গ্রামবাসীর সহায়তায় অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পরও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, ৭০ বছর ধরে কাঁচা মোহনপুর-তালতলা সড়ক
এ ঘটনায় র্যাবের একজন সদস্য বাদী হয়ে গত ১৩ মে নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। এ পর্যন্ত তিনটি পৃথক অভিযানে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আত্মগোপনে ছিলেন ঘটনার মূলহোতা ও পরিকল্পনাকারী শফিক।
অবশেষে সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং র্যাব-১০-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন ঝাউলাহাটি শহীদ কাওসার রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার মূলহোতা ও মামলার অন্যতম আসামি শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেপ্তারকৃত শফিকের বিরুদ্ধে র্যাব ও পুলিশের ওপর হামলার তিনটি মামলাসহ হত্যা, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও পর্নোগ্রাফিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।





