খাতা-কলমে পদ পূর্ণ, বাস্তবে চিকিৎসক সংকট,বাড়ছে রোগীর ভোগান্তি
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় উন্নত হলেও দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট এখনো কাটেনি। হাসপাতালের অনুমোদিত চিকিৎসকের অধিকাংশ পদ দাপ্তরিকভাবে পূরণ দেখানো হলেও বাস্তবে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। ফলে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা।
হাসপাতাল সূত্র ও দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়িত একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বর্তমানে জেলার বাইরে বা অন্য সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন: তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
তথ্য অনুযায়ী, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. মো. সাবা আল গালিব বর্তমানে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি ও অবস) ডা. রেজওয়ান শারমিন বর্তমানে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া মেডিকেল অফিসার ডা. টি. এইচ. এম. মাহবুব মুর্শেদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সাড়ে ৭ মাসে জকিগঞ্জে উদ্ধার ৪১ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১১৩
অন্যদিকে, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. সোহেল রানা, জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মোছা. সামছুজ্জোহা, জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন) ডা. দিলরুবা আফরোজ এবং ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. হাবিবুল হাসান বর্তমানে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।
এছাড়া সহকারী সার্জন/মেডিকেল অফিসার (অর্থোপেডিক্স ও ট্রমাটোলজি) ডা. এস. এম. আব্দুল্লাহ আল আহসান বর্তমানে জয়পুরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফলে কাগজে-কলমে চিকিৎসকের পদ পূর্ণ থাকলেও বাস্তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতির কারণে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সার্জারি, গাইনি, শিশু, অর্থোপেডিক্স, চর্ম ও যৌন রোগসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীদের অনেক সময় জেলা সদর বা অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
এতে সময়, অর্থ ও দুর্ভোগ—সবই বাড়ছে।
এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শ্রী তরুণ কুমার পাল বলেন, "আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ থাকলেও কয়েকজন চিকিৎসক সংযুক্তি, বদলি বা উচ্চতর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।নতুন চিকিৎসক পদায়ন হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।
এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আল মামুন বলেন,জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় তাদের এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। তারপরও তারা প্রতি সপ্তাহে ১ বা ২ দিন করে সেখানেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বাঁকি ঢাকায় রয়েছেন তাদেরকে নিয়ে আসার জন্য ইতি মধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে এবিষয়ে কথা হয়েছে।





