৫টি পাইপ বোমাসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার, সাভারের বাড়ি ঘিরে সিটিটিসি’র অভিযান
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)–এর একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য আরিফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ সময় ১৪টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইডসহ বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
সিটিটিসি বলছে, ওই আস্তানায় আসা-যাওয়া করতেন জেএমবির বোমা তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত ‘বোমারু মামুন’। সেখানে বোমা তৈরির কাজও তিনি তদারক করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকে, রেশনিংয়ে বিদ্যুৎ পাচ্ছে পটুয়াখালী; অতিষ্ঠ জনজীবন
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন চারতলা ভবনে অভিযান চালায় সিটিটিসি ও সাভার মডেল থানার পুলিশ। অভিযান শেষে ভবনটি থেকে ১৪টি পাইপ বোমা নিষ্ক্রিয় ও জব্দ করা হয়।
গ্রেফতার আরিফ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এলাকার হানিফের ছেলে।
আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য, ফাঁসি দিয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা!
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় আরিফের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছয়টি শক্তিশালী পাইপ বোমা ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক জব্দ করা হয়। পরে ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরও নয়টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইড ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
পুলিশের তথ্য মতে, আরিফ চলতি মাসের ২ আগস্ট ভুয়া পরিচয় দিয়ে ওই বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। বাড়ির মালিককে তিনি নিজেকে চালক ও শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরিবার নিয়ে সেখানে থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে শিশুদের পড়াবেন এমন তথ্য দিয়ে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়। পরদিন থেকেই সেখানে বসবাস শুরু করেন তিনি।
বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা বলেন, ‘আব্বাস আলী’ নামের একজনসহ দুজন বাসা ভাড়া নিতে এসেছিলেন। পরে ২ আগস্ট তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়। তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে বাচ্চাদের পড়াবেন বলে জানিয়েছিলেন।
ইলমা বলেন, তারা বলছিলেন, লোকটা গাড়ি চালায়, ড্রাইভার। পরিবার মনে করেই আমরা বাসা ভাড়া দিয়েছি। ভেতরে এত কিছু লুকিয়ে রাখছে, তা আমরা জানতাম না।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পুরো এলাকা ঘিরে রেখে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল তাদের কাজ সম্পন্ন করেছে। জব্দ করা সব বোমা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আটক আরিফের কাছ থেকে জেএমবির বিপুলসংখ্যক দাওয়াতি ও সাংগঠনিক লিফলেটও জব্দ করা হয়েছে।
সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, রাজধানীর মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা জব্দের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে দুজনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের একজন আরিফ এবং অপরজন ‘বোমারু মামুন’, যাকে এ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের শ্যামপুরে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়িটি ঘিরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ও বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার এবং আরিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ‘বোমারু মামুনকে’ গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।





