টাঙ্গাইলে ৫ দিনের যমজ নবজাতক রেখে উধাও মা, দিশেহারা বাবা
মাত্র পাঁচ দিনের দুই জমজ কন্যাশিশু। মায়ের আদর-স্নেহ পাওয়ার বয়সেই মাকে হারিয়ে ছটফট করছে অবুঝ দুই নবজাতক। সন্তান জন্মের মাত্র পাঁচ দিন পর দুই শিশুকে বাড়িতে রেখে মায়ের চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন শিশু দুটির বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার ধাড়িয়াল গ্রামে। পলাতক মায়ের নাম মারিয়া (১৮)। তিনি শান্তিনগর এলাকার ময়েন উদ্দিনের মেয়ে এবং ধাড়িয়াল গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেনের (২০) স্ত্রী।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে ১৬ লাখ টাকার কাঠ ও বাঁশ জব্দ করেছে সেনাবাহিনী
পরিবার জানিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে সাকিব ও মারিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সে সময় সাকিবের বয়স ছিল প্রায় ১৭ বছর এবং মারিয়ার বয়স ছিল প্রায় ১৫ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় একপর্যায়ে তারা বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করা হয় এবং পারিবারিকভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
বিয়ের প্রায় তিন বছর পর গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঘাটাইলের হাজী খোরশেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মারিয়ার কোলজুড়ে আসে জমজ দুই কন্যাশিশু।
সন্তান জন্মের পর পাঁচ দিন পর্যন্ত মা ও নবজাতকরা পরিবারের সঙ্গেই ছিল। কিন্তু গত সোমবার রাতে, মাত্র পাঁচ দিনের দুই নবজাতককে বাড়িতে রেখে মারিয়া চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেন স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। এরপর প্রায় একদিন পার হলেও তিনি সন্তানদের কাছে ফিরে আসেননি।
এদিকে মায়ের অনুপস্থিতিতে দুই নবজাতককে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাবা সাকিব হোসেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ দিনের জমজ দুই শিশুকে নিয়ে আমি চরম বিপাকে আছি।
নবজাতক দুটিকে বাঁচাতে এখন মায়ের খুব প্রয়োজন। আমি এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। মা যেন দ্রুত ফিরে এসে সন্তান দুটিকে কোলে তুলে নেয়। আমি সেই অপেক্ষায় আছি। ’
সাকিবের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ইশারা বা কোনো ধরনের প্ররোচনায় তার স্ত্রী সন্তানদের রেখে চলে যেতে পারেন বলে সন্দেহ করছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মারিয়া কেন সন্তানদের রেখে চলে গেছেন, সে বিষয়টিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকছেদুর রহমান বলেন, ‘গত রাতে আমরা এ ধরনের একটি জিডি পেয়েছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং শিশুটির মাকে খুঁজে বের করে সন্তানদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। ’





