রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন

শত শত বিঘা জমি জলসিড়ি প্রজেক্টের দখলে

Sadek Ali
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: ২:১৫ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৬ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কৃষকদের শত শত বিঘা জমি জলসিড়ি নামের একটি প্রজেক্ট দখল করেছে। গত ২০১০ সাল থেকে প্রায় সাড়ে হাজার একর জমি দখলে নিয়ে অবৈধভাবে বালু ভরাট করে সাধারণ কৃষক পরিবারের লোকজনকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগররুন হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলনে এই অভিযোগ করেন পৈত্রিক ভিটামাটি সংরক্ষন পরিষদের আহব্বায়ক মো. আহসান উল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ ইউনিয়ণের নাজমুল, আবু বক্কর সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল সালামসহ প্রমুখ ভূক্তিভোগরা।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ২৪ হাজার কেজি অবৈধ সারসহ ট্রাক আটক

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ মো. আহসান উল্লাহ জানান, বিগত ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রূপগঞ্জ কায়েতপাড়া এলাকায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার একর জমি দখল করে নিয়েছে জলসিড়ি নামক একটি প্রজেক্ট। কোন প্রকার ক্ষতিপুরণ না দিয়েই জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে একের পর এক সাধারণ কৃষকের বাড়ি ঘর, নাল জমি, ভিটেমাটি এমনকি কবর স্থানও দখলদারদের কবল থেকে রেহাই পায়নি।

এই জলসিড়ি প্রজেক্ট হওয়ার কারণে এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা বেকার হয়ে পড়েছেন। কৃষক নির্ভর এসব এলাকার লোকজন এখন অনাহারে দিন যাপন করছেন। এই জলসিড়ি প্রজেক্টের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, থানা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ আমলে নিচ্ছেন না।

আরও পড়ুন: সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আটক

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকগণ জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে রূপগঞ্জ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাধারণ বাসিন্দাদের বসত বাড়ি, ডেজ্জারের মাধ্যমে ভেঙে

একের পর এক দখলে নিচ্ছে। জলসিড়ির কারণে এলাকার একমাত্র ইচ্ছাপুরা খাল সেটিও ভরাট করে আবাসনে যুক্ত করেছে। এ ব্যাপারে

ভুক্তভোগিরা সরকারের কাছে উক্ত জলসিড়ি প্রকল্পের নামে জমি ক্রয় ও দখল এবং অবৈধ বালু ভরাট রাস্তাঘাট নির্মাণ বন্ধ রাখাসহ ৯টি দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগিরা আরো জানান, তাদের ন্যায় ও মানবিক দাবিগুলো অবিলম্বে না মানা হলে, পৈত্রিক সম্পত্তি ও জন্মমাটি রক্ষায় কায়েতপাড়াসহ সমগ্র রূপগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরো কঠোর আন্দোলনে রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন। প্রয়োজনে আমরা স্বশরীরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ও সেনা সদরদপ্তরে অবস্থান কর্মসূচী এবং স্বারক লিপি প্রদান করতে বাধ্য হবো।