বিরোধীদলের লংমার্চ নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, জিএমপির কর্মকর্তা প্রত্যাহার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ন, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫২ অপরাহ্ন, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিরোধীদলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি ও গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে অনুষ্ঠিত পথসভা নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় এক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পোস্টটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর সেটি প্রথমে সংশোধন এবং পরে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়।

প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তা খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ। তিনি দীর্ঘদিন জিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বর্তমানে তাকে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় তাকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: সেলিম আহমেদ রেজার বাবার মৃত্যুতে যুবদলের শোক

জিএমপি সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিরোধীদলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।

পথসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং সভাস্থলের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন: চার দফা দাবি জানিয়ে দুই ঘণ্টা পর মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার

পথসভা শেষ হওয়ার পর জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লংমার্চ নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে লংমার্চের গন্তব্য ও দাবির পাশাপাশি কর্মসূচির সময়সূচি এবং পুলিশের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনের তথ্য তুলে ধরা হয়।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়, লংমার্চটি আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে জিএমপি এলাকায় প্রবেশ করে। পরে সকাল ১০টার দিকে ভোগরা বাইপাস এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ চলে যায়। এতে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল বলেও পোস্টে দাবি করা হয়।

এ ছাড়া জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, উপপুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অফিসার ও ফোর্স লংমার্চের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনেকে পোস্টটির সমালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্টটি সংশোধন করা হয়। এরপর সেটি পুরোপুরি মুছে দেওয়া হয়।

এরপর ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত স্টাফ অফিসারকে প্রত্যাহার করে হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টের কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।