কিশোরগঞ্জে হাওরে জলমহাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২৫
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে একটি জলমহালের ইজারা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রামের আখড়াবাজার সংলগ্ন এলাকায় এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলতে থাকে।
আরও পড়ুন: পূর্ব অষ্টগ্রামে নির্বাচনী হাওয়া, চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আবুল বাশার বাবু
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঐতিহ্যবাহী ‘বিলমাকশা’ জলমহালের দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের পর আহতদের উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ড. আমিনুল ইসলাম জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে আসা ২২ জনের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অস্ত্র বানাও, মার্ডার হলে আমি দেখব: চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে অপপ্রচার দাবি করে মানববন্ধন
সংঘর্ষের পেছনে একে অপরকে দায়ী করেছেন দুই নেতা। সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পেলেও উপজেলা বিএনপি সভাপতি তাকে বাধা দিচ্ছেন এবং জলমহালটি দখলের জন্য উসকানি দিয়ে হামলা চালিয়েছেন। অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করে সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ উল্টো দাবি করেন, শাহিনের অনুসারীরাই প্রথমে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, পুলিশি তৎপরতায় বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





