এক শিক্ষকের উদ্যোগে বদলে গেল বিদ্যালয়ের চিত্র

Shahrier Islam Pallab
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪২ অপরাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪২ অপরাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধান শিক্ষক নেই ১৩ বছর ধরে। মঞ্জুরীকৃত ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র পথটিও কাঁচা। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে নেই পাঠদান। বরং একজন শিক্ষকের একক প্রচেষ্টা ও সৃজনশীল উদ্যোগে বদলে গেছে পুরো বিদ্যালয়ের চিত্র।

নাটোরের লালপুর উপজেলার ৯৮ নম্বর বড়বাদকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম সুইট। ২০২৩ সাল থেকে নিজের উদ্যোগে বিদ্যালয়টিকে আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও শিশুবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

আরও পড়ুন: কুমিল্লা, বাগেরহাট, নেত্রকোনা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে রঙিন ফুলের বাগান। শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো সহজে বোঝাতে তৈরি করা হয়েছে নানা ধরনের শিক্ষণীয় মডেল। দিন-রাত, অমাবস্যা-পূর্ণিমা, নামতা, যোগ, বর্ণমালা কিংবা ট্রাফিক সংকেত—জটিল বিষয়গুলোও এখন হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।

পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ‘রিডিং কর্নার’। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তৈরি করা হয়েছে ‘আলোকিত শিশু পাঠাগার’। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সৃজনশীল বিকাশে রয়েছে সততা স্টোর, বিজ্ঞান কর্নার, মানবতার দেয়াল এবং ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড ডিবেটিং ক্লাব।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে অপহরণ করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, ৩ জন গ্রেপ্তার

শুধু পাঠদানেই নয়, প্রশাসনিক কাজেও প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন সাইফুল ইসলাম। অনলাইন স্কুল ম্যানেজমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে ফলাফল, প্রত্যয়নপত্র ও ট্রান্সফার সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন নথি তৈরি করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আগে অনেক বিষয় শুধু বই দেখে মুখস্থ করতে হতো। এখন রঙিন মডেল ও ব্যবহারিক উপকরণের মাধ্যমে সেগুলো সহজেই বোঝা যায়। ফলে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহও বেড়েছে তাদের।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১০৪ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে শিক্ষক সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। মঞ্জুরীকৃত ছয়টি পদের চারটিই শূন্য থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। সম্প্রতি দুজন শিক্ষককে ছয় মাসের জন্য সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সৃজনশীল উদ্যোগের জন্য শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে উৎসাহিত করতে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির সংকট পুরোপুরি কাটেনি। তবে একজন শিক্ষকের উদ্যোগে যে পরিবর্তনের শুরু হয়েছে, তা দেখিয়ে দিয়েছে—সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আন্তরিকতা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধ থাকলে একটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ বদলে দেওয়া সম্ভব।