পাকুন্দিয়ায় শিশিরভেজা সকালে শীতের আভাস

Sadek Ali
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:২০ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শিশিরে ভেজা ঘাস, ধানের শীষে টলমল জলকণা আর ভোরের বাতাসে মৃদু শীতল পরশ—প্রকৃতির এমন বদলে যাওয়া রূপ জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের কথা। রাতের গরম কিছুটা কমেছে, ভোরে অনুভূত হচ্ছে হালকা ঠান্ডা। কোথাও কোথাও মাঠের ওপর পড়ছে কুয়াশার পাতলা আস্তরণ। শরতের শেষ প্রান্তে এসে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার গ্রামীণ জনপদে এখন শীতের আগমনী সুর।

উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ভোরের দৃশ্য যেন নতুন করে সাজছে প্রকৃতির তুলিতে। সূর্যের প্রথম আলোয় ধানের পাতায় জমে থাকা শিশির চিকচিক করে ওঠে। মেঠোপথের দুই পাশে সবুজ ফসলের মাঠ, গাছের ডালে পাখির ডাক আর দূরের বাড়িঘর ঘিরে থাকা হালকা কুয়াশা তৈরি করে শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ। প্রকৃতির এই রূপে মুগ্ধ হচ্ছেন ভোরে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ।

আরও পড়ুন: রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা

দিনের শুরুতেই এই পরিবর্তন টের পাচ্ছেন কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও প্রাতর্ভ্রমণকারীরা। কেউ ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছেন, কেউ যাচ্ছেন ফসলের মাঠে, আবার কেউ বাজারে নেওয়ার জন্য সংগ্রহ করছেন শাকসবজি। ভোরের বাতাসে হালকা ঠান্ডা থাকায় অনেকের পোশাকেও দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন। রাতে পাতলা কাঁথা গায়ে দেওয়ার অভ্যাসও ফিরে আসছে কারও কারও।

পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় আগের চেয়ে একটু বেশি ঠান্ডা লাগে। সকালে মাঠের দিকে তাকালে ধানের শীষ আর ঘাসের ওপর শিশির দেখা যায়। দূরে হালকা কুয়াশাও থাকে। এসব দেখে মনে হচ্ছে, শীতের সময় এগিয়ে আসছে।’

আরও পড়ুন: গৌরীপুরে ঘরের ভেতর লুকানো ছিল ৪৮ কেজি গাঁজা

কোদালিয়া গ্রামের কৃষক রুবেল মিয়ার কাছেও ধরা পড়েছে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন। তিনি বলেন, ‘ভোরে মাঠে গেলে ঠান্ডা বাতাস লাগে। রাতে এখন আর আগের মতো গরম থাকে না। মাঝে মাঝে বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ রেখেও থাকা যায়। মাঠের শিশির আর সকালের ঠান্ডা বাতাস দেখে শীতের কথা মনে পড়ে।’

চরপলাশ গ্রামের বাসিন্দা নাসির মিয়া বলেন, ‘সকালে মাঠে গেলে ধানের পাতায় শিশির জমে থাকতে দেখি। সূর্যের আলো পড়লে সেগুলো ঝিকমিক করে। গ্রামের সকালের এই সৌন্দর্য অন্য রকম ভালো লাগা তৈরি করে।’

ঘাগড়া গ্রামের গৃহবধূ হোসনা আক্তার বলেন, ‘আগে রাতে গরমের কারণে অস্বস্তি হতো। এখন শেষ রাতে কিছুটা ঠান্ডা লাগে। তাই গায়ে পাতলা কাঁথা দিতে হয়। মনে হচ্ছে, ধীরে ধীরে শীতের আমেজ শুরু হচ্ছে।’

এখনো জেঁকে বসেনি শীত। দিনের বেলায় রোদের উষ্ণতা থাকলেও সকাল ও রাতের আবহাওয়ায় অনুভূত হচ্ছে কোমল শীতলতা। প্রকৃতির এই রূপবদল একদিকে যেমন গ্রামীণ জীবনে স্বস্তি এনে দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি শীতের দিনগুলোর আগমনের প্রত্যাশা জাগাচ্ছে মানুষের মনে।

পাকুন্দিয়ার ফসলের মাঠে ধানের শীষ দুলছে বাতাসে, ঘাসের ডগায় জমছে শিশির, আর ভোরের আলোয় ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে কুয়াশা। ঋতুর এই নীরব পালাবদলে গ্রামবাংলার চিরচেনা প্রকৃতি যেন নতুন সাজে ধরা দিচ্ছে। প্রকৃতির প্রতিটি ভোর তাই এখন বলে যাচ্ছে—শরতের বিদায়ঘণ্টা বাজছে, শীতের আগমনের অপেক্ষা ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে।