আশুলিয়ায় কর্মকর্তার মৃত্যু: দুই ভাইয়ের অনশনের পর মামলা
ঢাকার আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার জামাল উদ্দিনের (৩৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এক পরিচালকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নিয়েছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি করেও মামলা করতে না পেরে দুই ভাই অনশনে বসার পর পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়া থানার ফটকের সামনে অনশনে বসেন নিহতের বড় দুই ভাই কুতুবউদ্দিন খান ও ইস্কান্দার আলী খান। পরে পুলিশ তাঁদের থানায় ডেকে নিয়ে অভিযোগ গ্রহণ করে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের সরাল পুলিশ
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেনকে। দ্বিতীয় আসামি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শারাফ হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।
নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদরের বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকান্দার আলীর ছেলে। তিনি আশুলিয়ার নরসিংহপুরে শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এ সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে কারখানার আটতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: বেড়ায় ব্ল্যাক রাইস ধান চাষে চমক সাদ্দামের
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অফিসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ কিংবা অন্য কোনো আক্রোশের জেরে তাঁকে হত্যা করে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁদের আরও দাবি, পরিবারের সদস্যদের মরদেহ দেখার সুযোগ না দিয়েই পুলিশ তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে নিহতের বড় ভাই ইস্কান্দার আলী লিখিত অভিযোগ নিয়ে বুধবার দুপুর থেকে থানায় যোগাযোগ করছিলেন। কিন্তু অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি এবং বারবার অভিযোগের খসড়া পরিবর্তন করতে বলার কারণে তাঁরা ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে দুই ভাই থানার ফটকের সামনে অনশনে বসেন।
এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে ইস্কান্দার আলী বলেন, তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেও সফল হননি। তাঁর অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ মামলা নিতে টালবাহানা করছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত থানা থেকে সরে যাবেন না বলেও জানান তিনি।
পরে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির মধ্যে পুলিশ দুই ভাইকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা গ্রহণ করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আবুল কালাম আজাদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতে দুজনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।





