ভোলার ২৭ মন্দিরে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভোলা সদর উপজেলার ২৭টি দুর্গাপূজা ম-প ও মন্দিরে অনুদান প্রদান করেছে জেলা পরিষদ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব যেন অত্যন্ত আনন্দঘন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে সে লক্ষ্যেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বৃহ¯পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের হাতে এই অনুদানের অর্থ তুলে দেন ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জ কারাগার পরিদর্শনে সন্তোষ প্রকাশ করলেন জেলা প্রশাসক
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ভোলা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, হিন্দু ধর্মীয় নেতা পিযুষ কান্তি হালদার, বিপ্লব কুমার পাল, বেনু পাল। অনুদান প্রদানকালে জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, "শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। উৎসবটি যেন সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে পারে, সেজন্য জেলা পরিষদ থেকে ২৭টি মন্দিরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাঙালি কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এই পূজা।"
তিনি আরও বলেন, "ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি আমাদের বাড়ির দেয়াল ঘেঁষেই হিন্দু প্রতিবেশী ও মন্দির। তারা আবহমানকাল ধরে স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পূজা-অর্চনা করে আসছে। আমাদের ঘর থেকেও কাঁসর-ঘণ্টা ও আরাধনার শব্দ শোনা যেত। আমরা কখনো এতে বাধা দেইনি এবং কাউকেও বাধা দিতে দেইনি। এবারও যেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইবোনরা সম্পূর্ণ নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে পূজা পালন করতে পারেন, সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক মনিটরিং ও সর্বাত্মক সহযোগিতা বজায় থাকবে।"
জেলা পরিষদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সনাতন ধর্মের নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, সময়োপযোগী এই আর্থিক সহায়তা পূজা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং প্রশাসকের এই ইতিবাচক ভূমিকা তাদের উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।





