সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত দাবি জামায়াতের

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৪ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
  • তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জামায়াতের 

দেশে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘদিনের সার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, সংসদ সদস্যদের স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও আত্মীয়স্বজনকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে দলটি। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ তোলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, দেশে সংকটের কোনো অন্ত নেই। যেখানেই ধরতে যাওয়া হয়, সেখানেই সংকট। যখন কোনো বিষয় জাতির কাছে একেবারেই অপরিহার্য ও অনিবার্য হয়ে ওঠে, তখন কথা না বললেই নয়। রাজনৈতিকভাবে সভা-সমাবেশে বক্তব্য ও বিবৃতির মাধ্যমে তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। বিশেষ করে দেশে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনা এবং দলীয়করণ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এতে জনগণের চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, প্রশাসনের নৈতিকতা ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর। সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সার আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ, ব্যবহার ও ডিলার নিয়োগের বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে প্রণীত রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ এবং এর অধীন অ্যালোকেশন অব বিজনেস অনুযায়ী সারসংক্রান্ত বিষয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। আগে একাধিকবার নীতিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন করা হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালেও এ বিষয়ে নীতিমালা ছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে আবার সেই নীতিমালা সংশোধন করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত সারসংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, এক মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্য এবং হস্তক্ষেপের কারণে দায়িত্বের সীমা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে সব কাজের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সার ডিলার নিয়োগের নীতিমালা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। উপজেলা ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটিতে রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব অবাধ হয়েছে। উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির ১০ জন সদস্যের মধ্যে তিনজনকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। একইভাবে জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির ১৩ জন সদস্যের মধ্যে তিনজনকে রাজনৈতিক বিবেচনায় মনোনীত করা হয়েছে। এভাবে ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এমন নীতিমালার প্রয়োগে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যবসায়ীদের ডিলার হওয়ার সুযোগ থাকছে না। বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও নেতারা কে কতজন ডিলার নিয়োগ করবেন, তা ভাগ করে নিয়েছেন। টাকার বিনিময়ে সেই ভাগ অনুযায়ী ডিলারশিপ বণ্টন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এক পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে ডিলারশিপ দেওয়ার সুযোগ নেই। দাবিগুলো হলো- ১. সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের যেসব অভিযোগ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে, সরকারকে অবিলম্বে সেগুলোর তদন্ত করতে হবে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ২. নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের যোগ্যতা মূল্যায়নের মানদণ্ড, তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স দেওয়ার ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ৩. ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে যাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও অর্থের পরিমাণ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ৪. সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য এবং জামায়াত ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের এলাকার সারসংকট সম্পর্কে দেওয়া তথ্য প্রকাশ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী কেন এ বিষয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন, তা-ও স্পষ্ট করতে হবে। ৫. সার ডিলার নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে জানাতে হবে। ৬. কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। ভিত্তিহীন অভিযোগ বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে কাউকে দায়ী করা যাবে না।

আরও পড়ুন: কৃষককে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই কৃষিখাতের নীতি ও প্রযুক্তি নির্ধারণ করতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন