উলিপুরে তহশিলদারের বিরুদ্ধে ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: প্রশাসনের নীরবতায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ

Shahrier Islam Pallab
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:০২ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:১০ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের উলিপুরে জমির নামজারি ও বকেয়া খাজনা পরিশোধের কথা বলে ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

ভুক্তভোগী মো. মিজানুর রহমান ও তাঁর শরিকদের অভিযোগ, তাঁদের ৩৫ একর ৩১ শতক জমির নামজারি এবং ৩৬ বছরের বকেয়া খাজনা পরিশোধের বিষয়ে তহশিলদার আহসান হাবিবের সঙ্গে কথা হয়। এ জন্য ১১ লাখ টাকা দাবি করা হলে ২০২২ সালের ১৪ মে থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে দলদলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে তাঁরা ওই টাকা দেন।

আরও পড়ুন: নিকলীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর সরকারি কোষাগারে পুরো অর্থ জমা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া যথাযথ রসিদ না দিয়ে একটি খতিয়ানের আংশিক খাজনা পরিশোধ দেখিয়ে নামজারি সম্পন্ন করা হয়। পরে জমির কাগজপত্রে অসংগতি দেখা দিলে তহশিলদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন ভুক্তভোগীরা। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

সম্প্রতি দলদলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তহশিলদার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর উলিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন: ‎লক্ষ্মীপুরে খোরশেদ বাহিনীর প্রধানকে গুলি করে হত্যা

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সাহেব আলগা ও দলদলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত তহশিলদার আহসান হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উলিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান বলেন, “অভিযোগটি আমি পেয়েছি এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।