নতুন প্রশাসকের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন

ঢাকা জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পে লুটপাঠের তথ্য বেরিয়ে আসছে

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ জেলা পরিষদ মার্কেট পরিদর্শনে গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র পেয়েছেন ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় কেরানীগঞ্জ-এর কালিগঞ্জ জেলা পরিষদ মার্কেটে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে চারতলা পর্যন্ত নির্মাণে নকশাবহির্ভূত ভবন, অবৈধ দোকান নির্মাণ, নদীর ঘাট দখল করে দোকান তৈরি এবং ভাড়া অনিয়মসহ নানা ধরনের দুর্নীতির তথ্য উঠে আসে।

আরও পড়ুন: সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তে জামায়াতের নিন্দা, প্রত্যাহারের দাবি

পরিদর্শনে দেখা যায়, মার্কেটের মোট ৫০৪টি দোকানের মধ্যে ৪৩৬টি বৈধভাবে বরাদ্দ দেওয়া হলেও ৬৮টি দোকান অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রশাসক জানান, এসব দোকান অবৈধভাবে বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কম মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে তা উচ্চ মূল্যে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজে ব্যবসা না করে অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন এবং জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে অবৈধ দোকান স্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সঙ্গে ব্যারিস্টার নুসরাত খানের আকদ সম্পন্ন

সরেজমিনে আরও জানা যায়, ভুয়া রশিদ তৈরি করে জেলা পরিষদের নামে ভাড়া আদায় এবং নকল দলিলের মাধ্যমে দোকান দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

এ সময় ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি অবৈধ দোকান সিলগালা করার নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা জানান। তিনি অনিয়মের বিভিন্ন চিত্র ভিডিও ধারণ করেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ঢাকা জেলার আওতাধীন জেলা পরিষদের প্রায় ৫০৪ একর বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কালিগঞ্জ জেলা পরিষদ মার্কেটের দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং প্রকল্প অনুমোদনে ‘পার্সেন্টেজ’ বা কমিশন বাণিজ্যের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

প্রশাসক আরও জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।