ভূয়া তান্ত্রিকের ফাঁদে কিশোরী, ৬৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ গ্রেফতার ৩
শেরপুরে কবিরাজির নামে ভয়ংকর প্রতারণা করে কিশোরীর কাছ থেকে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জামালপুর। ওই ঘটনায় সাড়ে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধারসহ একটি প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে চক্রের মূল হোতা জামালপুরের চরযথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মো. মনির হোসেন (২১), মো. মোস্তফার ছেলে মো. মুছা মিয়া (২৯) ও মৃত নবাব আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (২৮)। প্রতারকরা বিভিন্ন ভুয়া আইডি ব্যবহার করে মানুষের ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগাতো। বিশেষ করে ফেসবুক, ইমোসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কিশোর-কিশোরীদের টার্গেট করে আবেগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে পিবিআই জামালপুর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শেরপুরের কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমানের অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে মোছা. লুবাবা (১৩) তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে বেশি ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামে এক প্রতারকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ওই প্রতারক ও তার সহযোগীরা ইমো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নানা তান্ত্রিক কার্যক্রমের কথা বলে ধাপে ধাপে বিকাশে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর ১০ মার্চ ‘ঝাড়ফুঁক’ করার কথা বলে কৌশলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে যায় চক্রটি। ওই ঘটনা লুবাবার পরিবার জানার পর গত ১৭ মার্চ তার বাবা ছাইদুর রহমান সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ গ্রেফতার ১
বিষয়টি জানার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় জামালপুর ইউনিট তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে মোছা মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল বুধবার ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানাধীন মাসকান্দা এলাকা থেকে চক্রের মূল হোতা মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার দেখানো মতে বাড়ির পাশের বাগানে মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য আনুমানিক ৬৪ লাখ টাকা।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত পিপিএম বলেন, চক্রটি ইমো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যার সুযোগ নিয়ে ‘কবিরাজি’ ও ‘তান্ত্রিক’ চিকিৎসার নামে অর্থ আদায় করত। মামলার তথ্য পাওয়ার পরপরই আমরা একাধিক টিম গঠন করে কাজ শুরু করি। সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়েই মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: কসবায় ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দিলেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া, ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন





