পাওনা টাকা ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে তরুণীকে হত্যার ঘটনায় ৪ জন গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি: পিবিআই

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ন, ০২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পাওনা টাকা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরোধের জেরে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা এবং মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত ব্যুরো (পিবিআই), মুন্সীগঞ্জ। পরে গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই জানায়, গত ২৯ মে ২০২৬ তারিখে গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন ফুলদী নদী থেকে এক অজ্ঞাতনামা তরুণীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা চালায়। মরদেহটি অতিমাত্রায় পচে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি পদোন্নতি পাচ্ছেন ১০ কর্মকর্তা

পরবর্তীতে তথ্য-উপাত্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি হালিমা আক্তার (১৯), গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই গ্রহণ করে।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে চারজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকা থেকে আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আলামিন প্রধান (৫০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: সিআইডির দায়িত্ব পেলেন ডিআইজি জনাব আলি আকবর খান

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিহত হালিমা আক্তার পূর্বে দুই আসামির কাছে টাকা ধার দিয়েছিলেন। পাশাপাশি কয়েকজন আসামির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে টাকা ফেরত দেওয়া ও সম্পর্কজনিত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় আসামিরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় হালিমাকে কৌশলে বড় ভাটেরচর এলাকার নদীতীরে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নৌকায় করে তাকে নদীর ওপারে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় পিবিআই।

ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।