সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান আইজিপির

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ন, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৮ অপরাহ্ন, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। তিনি বলেছেন, আগামী দিনের টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত কর্মকর্তাদের যোগদানপূর্ব দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির ভাইরাল অডিও সত্য, তদন্তে তথ্য পাচারের বিষয়

আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশকেও নতুন পথরেখা তৈরি করে এগিয়ে যেতে হয়েছে। এ পথরেখায় জনপ্রত্যাশা, মানবাধিকার এবং নারী, শিশু ও বয়স্ক নাগরিকদের প্রতি সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


আরও পড়ুন: বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মুখপাত্র কামারুম মুনিরা

নবপদায়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, নবউদ্যম ও অঙ্গীকার নিয়ে জনপ্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেক কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ পুলিশের একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশিং একটি সেবা ও চ্যালেঞ্জ।’ ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নবীন কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ পুলিশ লিডার হিসেবে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। নিত্যনতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইন ও বিধিবিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে পেশাদারত্ব বজায় রেখে জনগণকে সেবা দিতে হবে।

পুলিশ প্রধান আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে আস্থাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে নবপদায়িত কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে তাদের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা পেশাদারত্ব বজায় রেখে জনগণকে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জনে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন জাতির প্রত্যাশা পূরণে নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মো. মুশফেকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ও নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটের প্রধান মো. ইকবাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (প্রশাসন) মো. হুমায়ুন কবীর।

৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে ৭২ জন কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন।