বাদাম চাষ ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন নরসিংদীর কৃষকরা

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ন, ৩১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৩ অপরাহ্ন, ৩১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বাদামের চাষ। বাদাম চাষ করে কৃষকরা দেখছেন স্বাবলম্বী হওয়ার সম্ভাবনা। 

জেলার সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী  নজরপুর, করিমপুর, আলোকবালি ও চরদিঘলদী, রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ, মির্জানগর, আদিয়াবাদ, চাঁনপুর,

আরও পড়ুন: সরিষা আর মৌচাষে আগ্রহ বাড়ছে নাসিরনগরের কৃষকদের

পাড়াতলী, বাঁশগাড়ী, শ্রীনগর, চাঁদপুর, মির্জারচর, চরমধুয়া, মাঝেরচর,  মৌহিনিপুর, সদাগর কান্দি এবং বেলাবো উপজেলার চর বেলাবো এলাকায় বিভিন্ন জাতের বাদাম চাষ হচ্ছে। এসব এলাকার অনাবাদি জমিতে অন্যান্য ফসলের তুলনায় স্বল্প খরচ এবং কম পরিশ্রমে বাদাম চাষ বেশ ভাল এবং বেশি লাভজনক হওয়ায় বাদাম চাষকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনছেন ওই এলাকার  কৃষকরা। ফলে আগের তুলনায় নরসিংদীর চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষ। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাদামের গুণগত মানও ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে রয়েছে এর চাহিদা। 

এদিকে স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বাদাম চাষের পরিধি আরও বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও বিনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বীজ সহায়তা, প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জৈন্তাপুরে রবিশস্য ও ফলের মিশ্র বাগান গড়তে কাজ করছে কৃষি বিভাগ

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, নদীর তীরবর্তী অনাবাদি জমিতে বাদাম চাষে সার বা বিষের প্রয়োজন হয় না। অপরদিকে অন্যান্য ফসল চাষে যেমন অধিক পরিশ্রম তেমনি কম পরিশ্রমের ফলে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব।

সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর গ্রামের বাদাম চাষী মাসুদ মিয়া বলেন, এ বছর ১২বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। প্রায় ২ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে। আল্লাহ চাইলে কেনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই ফসল ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করবো।

শাহিন মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, মেঘনা নদী তীরবর্তী জমি গুলোতে আগে ফসল বুনতে অধিক পরিশ্রম করতে হতো। এখন বাদাম চাষের ফলে অধিক মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বাদাম শুকানো ও মাসের পর মাস সংরক্ষণ করাও যায় সহজ পদ্ধতিতে। এতে কোনো বাড়তি খরচের প্রয়োজন হয় না। তাই এখন কৃষকরা বাদাম চাষে বেশি আগ্রহ হচ্ছেন। 

 নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সালাউদ্দিন টিপু বলেন, যেসব জমিতে অন্য ফসল হয় না, সেসব পতিত জমিতে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন বাড়ছে, কৃষক লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিয়মিতভাবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, জেলায় চলতি মৌসুমে ২৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে ৩১০ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ করা হয়েছে।