ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা শুরু, স্বস্তিতে যাত্রীরা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, ০১ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষ হতে চলায় রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফিরতি যাত্রায় যাত্রীচাপ কম থাকায় সড়ক, রেল ও নৌপথে ভোগান্তিও তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।

রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে রাজধানীমুখী যাত্রীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে কোথাও অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। পরিবহন চলাচলও ছিল স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন: যানজট নিরসনে মানা হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা

বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বহু যাত্রী। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আসা যাত্রীদের ভাষ্য, নদীপথে যাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক এবং নির্ধারিত সময়েই অধিকাংশ লঞ্চ রাজধানীতে পৌঁছেছে। অতিরিক্ত যাত্রীচাপ না থাকায় কোনো ধরনের ভোগান্তিও পোহাতে হয়নি।

একইভাবে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলোতেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল স্বাভাবিক। যাত্রীরা সহজেই বাস থেকে নেমে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পেরেছেন। যাত্রীচাপ কম থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে খুলবে শহীদ জিয়া শিশু পার্ক

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে সবাই একসঙ্গে রাজধানীতে ফিরছেন না। অনেকেই ধাপে ধাপে ফিরছেন, ফলে যাত্রীচাপ কয়েক দিনের মধ্যে বিভক্ত হয়ে গেছে। এতে পরিবহন ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও কমেছে।

অন্যদিকে, ঈদের সময় বাড়ি যেতে না পারা অনেক মানুষ এখন পরিবার নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন পরিবহন কেন্দ্রে ঢাকামুখী ও গ্রামমুখী—দুই ধরনের যাত্রীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবুও কোথাও বড় ধরনের চাপ বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি।

যাত্রীরা বলছেন, ফাঁকা সড়ক, স্বাভাবিক যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার কারণে এবারের ঢাকা ফেরা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। তবে ছুটি শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে রাজধানীমুখী যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ছুটি ভোগ করছেন। আগামীকাল থেকে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ায় রাজধানীতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।