দুই দশকের সুরযাত্রায় এখনো অনন্য হাবিব ওয়াহিদ

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩৮ অপরাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলা সংগীতের দৃশ্যে একসময় যে পরিবর্তনকে অসম্ভব মনে করা হতো, সেটিই নিজের সৃষ্টিশীলতা ও সংগীত প্রযোজনার মাধ্যমে সম্ভব করেছেন হাবিব ওয়াহিদ। লোকগানের সুরের সঙ্গে আধুনিক ইলেকট্রনিক বিট, পপ ও ওয়েস্টার্ন মিউজিকের সমন্বয়ে তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব একটি সংগীতধারা। দুই দশকের বেশি সময় ধরে সেই ধারায় কাজ করে এখনো শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয় এই শিল্পী। ১৯৭৯ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকায় জন্ম হাবিব ওয়াহিদের। সংগীত পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাঁর বাবা পিয়েরু খানও ছিলেন পরিচিত সংগীতশিল্পী। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে গিয়ে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেন হাবিব। সংগীতের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত শিক্ষাও তাঁর পরবর্তী ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

‘কৃষ্ণ’ বদলে দেয় ক্যারিয়ারের মোড়

আরও পড়ুন: ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’: পুরোনো চরিত্র, নতুন ক্ষমতার লড়াই

২০০৩ সালে ‘কৃষ্ণ’ অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে বড় ধরনের পরিচিতি পান হাবিব ওয়াহিদ। ঐতিহ্যবাহী লোকসুরকে আধুনিক ইলেকট্রনিক মিউজিক ও ওয়েস্টার্ন বিটের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা অ্যালবামটি তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

‘কৃষ্ণ’-এর সাফল্যের পর একে একে আসে ‘মায়া’ ও ‘ময়না গো’। এসব কাজের মাধ্যমে পুরোনো লোকগান নতুন সংগীতায়োজনে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

আরও পড়ুন: সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে ৩ দিনজুড়ে চলবে সিনেমা প্রদর্শনী

গায়ক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত

২০০৬ সালে ‘শোনো’ অ্যালবামের মাধ্যমে একক শিল্পী হিসেবে নিজের কণ্ঠের পরিচয় আরও দৃঢ় করেন হাবিব। এরপর ‘আহ্বান’সহ বিভিন্ন একক গান ও অ্যালবামে তাঁর নিজস্ব গায়কির প্রকাশ ঘটে।

গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। তাঁর সংগীতায়োজনে আধুনিক সাউন্ড, মেলোডি ও দেশীয় আবহের সমন্বয় শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়।

Habib Wahid - Habib Wahid added a new photo.

চলচ্চিত্রের গানেও সাফল্য

চলচ্চিত্রের গানেও হাবিব ওয়াহিদের রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। ‘হৃদয়ের কথা’ চলচ্চিত্রের ‘ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু’ গানসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রের গান তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। পরবর্তীতে ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘প্রজাপতি’ ও ‘শিকারি’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রের গানে তাঁর সুর ও কণ্ঠ শ্রোতাদের নজর কাড়ে।

ন্যান্সির সঙ্গে জুটি ছিল বিশেষ আলোচিত


হাবিব ওয়াহিদের সংগীতজীবনে বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ন্যান্সির সঙ্গে তাঁর জুটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাঁদের কণ্ঠে প্রকাশিত একাধিক রোমান্টিক গান দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

এছাড়া কায়া, হেলাল, শিমিসহ বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন হাবিব। তাঁর সংগীতায়োজন ও প্রযোজনার মাধ্যমে অনেক শিল্পীই নতুন শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। 

লোকগান থেকে ইলেকট্রনিক ফিউশন

হাবিব ওয়াহিদের সংগীতের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তাঁর ফিউশনধর্মী কাজ। বাংলা লোকগানের ঐতিহ্যবাহী সুরের সঙ্গে ইলেকট্রনিক, পপ, হিপ-হপ ও ডান্স মিউজিকের উপাদান মিশিয়ে তিনি তৈরি করেছেন স্বতন্ত্র সাউন্ড।

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে আধুনিক সাউন্ড মিক্সিং, মাস্টারিং ও প্রযুক্তিনির্ভর সংগীত প্রযোজনার ব্যবহার জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রেও তাঁর কাজকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হাবিব ওয়াহিদ পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসসহ বিভিন্ন আয়োজনে তাঁর সংগীত পরিচালনা ও গায়কির স্বীকৃতি মিলেছে।

এখনো সক্রিয় সংগীতাঙ্গনে

সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও শ্রোতার রুচি বদলালেও হাবিব ওয়াহিদের কাজের গতি থেমে নেই। অ্যালবামের যুগ পেরিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সময়ে তিনি নিয়মিত নতুন গান ও মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করছেন।

বাংলা লোকসঙ্গীতের শিকড়কে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সংগীতধারার সঙ্গে যুক্ত করে যে নতুন শ্রোতাবান্ধব ধারা তৈরি হয়েছে, হাবিব ওয়াহিদ সেই পরিবর্তনের অন্যতম পরিচিত মুখ। আর এ কারণেই বাংলা সংগীতের ইতিহাসে তাঁর নাম উচ্চারিত হয় একজন ট্রেন্ডসেটার হিসেবে।


শাহরিয়ার ইসলাম পল্লব/সাব-এডিটর/বাংলাবাজার পত্রিকা