৮ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের, তীব্র যানজট
চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটি এবং পরীক্ষা পদ্ধতির প্রতিবাদে রাজধানীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি অংশ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। এতে সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করে প্রশাসনকে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দিনব্যাপী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধেরও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে খুলবে শহীদ জিয়া শিশু পার্ক
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের উদ্দেশ্য জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা নয়। তবে প্রশ্নপত্রে গুরুতর ত্রুটি এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সৃষ্ট সংকটের কারণে তারা সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
তারা শিক্ষার্থী-বান্ধব ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান।
আরও পড়ুন: ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ঢাকা মেডিকেলে তিন কারাবন্দীর মৃত্যু
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
- প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা।
- এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণা বন্ধ।
- দেশব্যাপী অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত।
- পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।
- প্রশ্নপত্রের ত্রুটির কারণে বিজ্ঞান বিভাগের সব বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ১৪ নম্বর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান।
- শিক্ষাব্যবস্থাকে শিক্ষার্থী-বান্ধব ও চাপমুক্ত করা।
- গত দুই বছরের প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশ্নপত্রের মান উন্নয়ন।
- শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান।
বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অফিসগামী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত ছিল।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।





