বিশ্ববাজারে টানা চার দিন ধরে কমছে স্বর্ণের দাম

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৬ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে স্বর্ণের দাম। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আসন্ন সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুটির দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১১৮ ডলার ১৮ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৬ ডলার ২০ সেন্টে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: দেশের বাজারে আবারও কমল সোনার দাম

ডিএইচএফ ক্যাপিটাল এসএ-এর প্রধান নির্বাহী ও সম্পদ ব্যবস্থাপক বাস কুইজম্যানের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে থাকলে স্বর্ণের বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘায়িত করার আশঙ্কা তৈরি করছে। এতে সুদের হার বেশি রাখার সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন: সারা দেশে দুই বন্ধ থাকবে এলপিজি গ্যাসের দোকান

তবে স্বর্ণের দাম আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও দেখছেন বিশ্লেষকেরা। টেস্টলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক মনে করেন, আগামী বছর সুদের হার বাড়ার যে আশঙ্কা বাজারে তৈরি হয়েছে, তা কমে এলে স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে। অর্থাৎ সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার পরিবর্তন মূল্যবান ধাতুটির বাজারে নতুন গতি আনতে পারে।

রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব অর্থনীতিবিদ ধারণা করছেন, চলতি অক্টোবর মাসে ফেড সুদের হার বাড়াবে না। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চললেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি আপাতত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের মাত্র ১৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেছেন প্রায় ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।

সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ, স্বর্ণে বিনিয়োগ করে সুদ পাওয়া যায় না। বিপরীতে সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের মুনাফা বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যেতে পারে।

এদিকে সাম্প্রতিক দরপতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের সূচক স্থিতিশীল হয়েছে, যা স্বর্ণের চাহিদার ওপর চাপ তৈরি করেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের দিকে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপে ফেড এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। বুধবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৪ সেন্টে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩৮ ডলার ৬১ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০ ডলার ৮৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।