চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তে বড় প্রবৃদ্ধি

Sanchoy Biswas
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ন, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৬ অপরাহ্ন, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজস্ব আয় ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২১ থেকে ২০২৫—এই পাঁচ পঞ্জিকাবর্ষে বন্দরের রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১৩.০৮ শতাংশ। একই সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্তের প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১৮.৪২ শতাংশ। এই সাফল্য এসেছে সেবার মান অক্ষুণ্ণ রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার মাধ্যমে।

জানা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার ৭.৫৯ শতাংশের মধ্যে ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) বাবদ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত পাঁচ বছরে সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে ৭৫৮০.২০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: সবজির বাজারে আবার অস্থিরতা, কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আয় করেছে ৫,৪৬০.১৮ কোটি টাকা। একই সময়ে রাজস্ব ব্যয় হয়েছে ২,৩১৭.৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্বৃত্ত রাজস্বের পরিমাণ ৩,১৪২.৬৮ কোটি টাকা, গত পাঁচ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার ফলে ২০২৪ সালেও বড় অঙ্কের অর্থাৎ ২,৯২৩.১৭ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। বছরটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৫,০৭৬.৭৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় ছিল ২,১৫৩.৫৮ কোটি টাকা। তার আগের বছরগুলোতে অর্থাৎ ২০২৩, ২০২২ ও ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২,১৪৩.১১, ১,৭৩৪.২০ ও ১,৬৩৩.২৬ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: আগস্ট মাসের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখল সরকার

উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় ছিল ২০২৪ সাল। বছরটিতে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২১.৮৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষেও বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় আগের বছরের তুলনায় ৭.৫৫ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে রাজস্ব আয়ে ১৬.৬৯ এবং ২০২২ সালে ৬.১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধের নীতি কঠোরভাবে পরিপালন করায় গত দুই বছর ধরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটির রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৬১ শতাংশ। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালেও ব্যয় প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫০ শতাংশে সীমিত রাখতে পেরেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। যদিও ২০২৩ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধির হার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল এবং বছরটিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব ব্যয় পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১০.১৮ শতাংশ বেশি ছিল। এর আগে ২০২২ সালে বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ের এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.১৭ শতাংশ।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতি বছর বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে এই অর্থ জমা দেয় তারা। গত পাঁচ পঞ্জিকাবর্ষে সংস্থাটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে মোট ৭৫৮০.২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা দিয়েছে কর হিসেবে, যার পরিমাণ ৩,৫৫৩.০৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ জমা দিয়েছে ৩,৪২৭.১২ কোটি টাকা। এর বাইরে কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোট ৬০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণও প্রতি বছর বাড়ছে। সর্বশেষ ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষেও কর, ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে ১,৮০৪.৪৭ কোটি টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় যা ৫.৪১ শতাংশ বেশি। ২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১,৭১১.৭৫ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মধ্যে ২০২৩ সালে ১,৫১৯.৩৫ কোটি, ২০২২ সালে ১,৩৫৯.৫৯ কোটি এবং ২০২১ সালে ১,১৮৫.০৪ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।