২ কোটি লি. সয়াবিন তেল আনছে সরকার: টিসিবি বিক্রি করবে ১৭৯ টাকা
দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভোজ্যতেলের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে এ তেল বিক্রি করা হবে। সরকারি হিসাবে প্রতি লিটার তেলের মোট খরচ পড়বে ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা, যা বর্তমানে খোলা বাজারের গড় দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দামের অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এই আমদানিকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
আরও পড়ুন: তিন দফা বৃদ্ধির পর কমলো জেট ফুয়েলের দাম
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এ তেল সংগ্রহ করবে। দরপত্রে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নে একটি প্রতিষ্ঠানকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘পিটি ট্রিনিটি ছায়া এনার্জি’কে সরবরাহকারী হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১ দশমিক ১৫১ মার্কিন ডলার দরে সরবরাহ করবে। এতে ২ কোটি লিটার তেল আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন: ভারত থেকে এলো তিন ট্রাক বিস্ফোরক দ্রব্য, নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি
টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, সিএফআর মূল্য, পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় যুক্ত করে প্রতি লিটার তেলের প্রকৃত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে একই ধরনের বোতলজাত সয়াবিন তেলের গড় মূল্য প্রায় ১৯৫ টাকা হওয়ায় টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি দামে বিক্রি করলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সরাসরি মূল্যসুবিধা পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। ডলার সংকট, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি এবং উৎপাদনকারী দেশগুলোর নীতিগত পরিবর্তনের কারণে বাজারে চাপ রয়েছে। এ অবস্থায় আগাম আমদানির মাধ্যমে সরকারি মজুত শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে কোটি মানুষের কাছে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। চাল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি ভোজ্যতেলও এই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। ফলে নতুন এই চালান বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায়ও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২৩ কোটি লিটার ভোজ্যতেল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ কোটি ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪ লিটার তেল ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এ আমদানির মাধ্যমে অবশিষ্ট চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আসন্ন মাসগুলোতে বাজার স্থিতিশীল রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।





