স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধে গরু মোটাতাজা, ভেজাল গো-খাদ্যে সয়লাব বাজার

Sadek Ali
জাহাঙ্গীর হোসেন, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ন, ০৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ৪:১১ অপরাহ্ন, ০৫ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পশু পালনকারীরা।

ভালো দামের আশায় তারা দিনরাত পশু পরিচর্যা করছেন। তবে এক শ্রেণীর অসাধু পশু পালনকারী গরু মোটাতাজাকরণে ব্যবহার করছেন বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ। অধিক মুনাফার লোভে তারা গরুতে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন ওষুধ নামের বিষ। এসব গরুর মাংস খেলে কিডনি, হৃৎপিন্ড, পাকস্থলীতে জটিল রোগ হতে পারে। কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে মানবদেহের নানা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের। এখনই ব্যবস্থা না নিলে মানবস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে লোডশেডিংয়ের কারণে বাড়ছে হাতপাখার কদর

গরু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর ট্যাবলেট ব্যবহার করছেন অসাধু পশু পালনকারীরা রোগাক্রান্ত কিংবা কম ওজনের গরু, ছাগল ও মহিষের দ্রুত ওজন বাড়াতে ‘পাম’ বড়ি খাওয়াচ্ছেন তারা।  এছাড়া  স্টেরয়েড, প্রি-ডেক্সানল, ডেক্সামেথাসন,বেটামেথাসন, পেরিঅ্যাকটিন, প্যারাডেক্সা ও ওরাডেক্সান বড়ি গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে। এতে অল্প দিনে ফুলে-ফেঁপে উঠছে গরু। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে অনেক কৃষক ও গরু খামারি নিষিদ্ধ ওষুধ খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে থেমে নেই অসাধু গোখাদ্য ব্যবসায়ীদের প্রতারণা।উপজেলার বিভিন্ন বাজারে উন্নত মানের প্যাকেট ব্যবহার করে নিম্নমানের গো খাদ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা, পাশাপাশি ঝুঁকিতে পড়ছে পশুর স্বাস্থ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ভালো মানের ফিডের বস্তা ব্যবহার করে নিম্ন মানের  ফিড ও ভুষি প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করছে।বাইরে থেকে দেখে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে এসব নিম্নমানের খাবার শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন: ক্ষুদে ফুটবলার সোহাদার পাশে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব নিল সরকার

খামারিরা জানান, অধিক লাভের আশায় সব ব্যবসায়ী পশু খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করছে। ফলে গরু-ছাগলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বারোবাজার, কাষ্টভাঙ্গা, রাখালগাছি,মালিয়াট  নিয়ামতপুর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন গ্রামের অনেক খামারি দ্রুত লাভের আশায় এসব ওষুধ ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু অসাধু খামারি গরু দ্রুত মোটা করার জন্য স্টেরয়েড ও অন্যান্য নিষিদ্ধ ইনজেকশন প্রয়োগ করছেন।খামারিদের একটি অংশ জানিয়েছেন, বাজারে প্রতিযোগিতা বেশি

হওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে এসব পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। তবে সচেতন খামারিরা এ ধরনের কার্যক্রমের বিরোধিতা করেছেন এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলায় ২৩০টি গরু খামার রয়েছে। এছাড়া ৪১৮৯ বাড়িতে রয়েছে ৪১৩২৪ টি কোরবানী উপযোগী ষাড়, গা্‌ভী , ব্‌লদ , ছাগল ও ভেড়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মৌসুমি গরু খামারি  জানান,ফার্মেসি কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট বাজারের- সবখানেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গরু মোটাতাজাকরণের ওষুধ। আগে গরু মোটাতাজাকরণের  ওষুধ গোপনে বিক্রি হলেও ইদানীং পশু চিকিৎসকরা গরু খামারিদের হাতে প্রকাশ্যেই এসব ওষুধ ধরিয়ে দিচ্ছেন।

তিনি প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের পর তুলনামূলক কম দামে প্রাপ্তবয়স্ক রোগা-চিকন গরু কেনেন। তারপর গরুকে স্টেরয়েড ও ডেক্সামেথাসন গ্রুপের ওষুধ খাওয়ান। আর এতেই সর্বোচ্চ দেড় মাসের মধ্যে গরু হয়ে ওঠে মোটাতাজা ও আকর্ষণীয়। দুইমাস আগে যে গরু ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় কেনেন, কোরবানির ঈদের বাজারে সেসব গরু ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জিননু রাইন দাবি করেন, তিনি কখনও ওষুধ খাইয়ে গরু মোটাতাজা করার জন্য খামারিদের পরামর্শ দেননি; বরংতাদের সচেতন করতে তিনি নিয়মিত উঠান বৈঠকের আয়োজন করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য  কর্মকর্তা ডা. অরুন কুমার দাস জানান, ওষুধ খাওনো মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানুষের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। আশঙ্কা রয়েছে কয়েক ধরনের দুরারোগ্য ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ারও।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আতিকুজ্জামান জানান,স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে বিরত থাকার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। নিম্ন খাবার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।