জবিতে সরস্বতী পূজায় এবারও নারী পুরোহিত

Sanchoy Biswas
আরাফাত চৌধুরী, জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পূজামণ্ডপে নারী পুরোহিতের পরিচালনায় সরস্বতী পূজা উদযাপন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সমাদৃতা ভৌমিক বাণী অর্চনা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে দেবী সরস্বতীর আরাধনা করছেন।

এটি সমাদৃতার তৃতীয়বারের মতো নারী পুরোহিত হিসেবে সরস্বতী পূজা পরিচালনা। হিন্দু ধর্মে নারীরা সাধারণত পূজার আনুষঙ্গিক কাজ যেমন পুষ্পাঞ্জলি, ধূপ-দীপের দায়িত্ব পালন করেন। তবে পৌরোহিতের দায়িত্ব অধিকাংশ ক্ষেত্রে এখনও পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

আরও পড়ুন: শিক্ষকদের ভাতা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা মাউশির

সমাদৃতা ভৌমিক বলেন, "আমি প্রথমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুরোহিত হিসেবে সরস্বতী পূজা পরিচালনা করি ২০২৪ সালে। এটি আমার তৃতীয়বার ক্যাম্পাসে পুরোহিত হিসেবে পূজা সম্পাদনের অভিজ্ঞতা। আমার সহপাঠী, সিনিয়র-জুনিয়রসহ শিক্ষকদের থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। আমাদের সমাজে এখনও অনেকেই জানে না যে মেয়েরাও পূজা পরিচালনা করতে পারে। তবে ধর্মগ্রন্থে কোথাও মেয়েদের পূজা পরিচালনায় কোনো নিষেধ নেই। আমার মতে, মেয়েদের আরও বেশি পুরোহিত বা পূজা পরিচালনার কাজে এগিয়ে আসা উচিত।"

এ বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬টি বিভাগ, ২টি ইনস্টিটিউট ও ১টি হলসহ মোট ৩৯টি পূজামণ্ডপে সরস্বতী পূজা উদযাপন করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবন, দ্বিতীয় ফটক, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, কলা অনুষদ, ভাস্কর্য চত্বর, শহীদ সাজিদ ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এলাকায় স্থাপিত পূজামণ্ডপগুলোতে সকাল থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলছে।

আরও পড়ুন: সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ সরকার বলেন, "আমরা প্রতিবছরই চেষ্টা করি ব্যতিক্রম কিছু আয়োজন করতে। এবারই প্রথম নয়, আগেও ২ বার সমাদৃতা দিদি আমাদের বিভাগের পূজা পরিচালনা করেছেন।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, "এটি খুবই ইতিবাচক একটা দিক এবং আমরা এটাকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের কালচারে হয়তো এর আগে এটা কখনো হয়নি যে নারী পুরোহিত পূজা পরিচালনা করবেন, কিন্তু গতবার এবং এইবার আমি দেখে আসলাম ইংরেজি বিভাগেরই ছাত্রী উনি পূজা করছেন। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ এবং আমরা মনে করি সার্বজনীন যে পূজা, সেটি শুধু বিশেষ পুরুষশাসিত নয় বরং পুরুষ-মহিলা সবাই করতে পারে যার ব্রাহ্ম জ্ঞান আছে।"