রমজানে এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছে নয়শত মুসল্লি

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ন, ১৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৩ অপরাহ্ন, ১৪ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহের বাড়েরা মাদানী নগরে অবস্থিত খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

২০১২ সালে কুতুবে আলম শাইখুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর খলিফা শায়খ আব্দুল মুমিন (রহ.)-এর মাধ্যমে এই খানকার প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোতোওয়াল্লী মুফতি মাহবুবুল্লাহর সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি দেশ ও জাতির কল্যাণে বিভিন্ন ধর্মীয় ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

আরও পড়ুন: বগুড়ার উন্নয়নে শুধু ঘোষণা হয়েছে, কিছু বাস্তবায়ন হয়নি: আতিকুর রহমান রুমন

প্রতিবছরের মতো চলতি বছরও পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে খানকায় ব্যাপক আমল ও ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজানের প্রায় দশ দিন আগে থেকেই এখানে ৪০ দিনের চিল্লার আমল শুরু হয়।

২০২৬ সালে রমজানের দশ দিন আগে প্রায় ১২৫ জন মুসল্লি ইতিকাফে বসেন। পরে পহেলা রমজান থেকে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৫ জনে। রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফকারীর সংখ্যা ৮৫০ থেকে প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, সৈয়দপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা, এছাড়া বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সিলেট, সুনামগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে এসে ইতিকাফে অংশ নিচ্ছেন। তাদের আমল ও ইবাদতে পুরো খানকা এলাকা এখন আধ্যাত্মিক পরিবেশে মুখরিত।

খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া শুধু আধ্যাত্মিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশ-বিদেশে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও পরিচালনা করে থাকে। ফিলিস্তিনে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য ইফতার ও খাদ্য বিতরণ, ভারতে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানদের আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালে সিলেটের বন্যায় প্রায় ২৬ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়। আর ২০২৪ সালে নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লার বন্যায় ৬৬ লাখ টাকার বেশি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

খানকার তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ২০০-এর বেশি নও-মুসলিমের দেখভাল করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৫৫ জনের বেশি এতিম ও অসহায় শিশুর চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা হয়। এছাড়া ২০০-এর বেশি অসহায় শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

খানকার দায়িত্বশীলরা জানান, মানুষের নৈতিক উন্নয়ন, উন্নত চরিত্র গঠন এবং সর্বোপরি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।