শিবিরের নেতৃত্বে জবিতে সাংবাদিকদের উপর হামলা, আহত ১২
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিবিরের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের উপর হামলায় ১২ জন আহত হয়েছেন। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (৫ই মার্চ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: যবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে বিজমেকার
আহতরা হলেন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. মিলন হোসেন, জনকণ্ঠের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ওমর ফারুক, দৈনিক যায়যায়দিনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মিজান উদ্দিন মাসুদ, প্রথম আলোর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, দৈনিক বর্তমানের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. আরিফুল ইসলাম, দৈনিক তরুণকণ্ঠের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবিধ হাসান বাঁধন, ব্রেকিং নিউজ ডটকমের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. ইয়াসিন সাইফ, বাংলাদেশ গার্ডিয়ানের হাবিবুর রহমান, রুপালি বাংলাদেশের নাফিজ উদ্দিন, রেডিও টুডের আবুল হাসনাত এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব।
আহত সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়টি জানতে সমিতির কার্যালয়ে যান। শিবির এবং জকসু প্রতিনিধিরা সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় দখল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি করছিলেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি না হওয়ার বিষয়টি জিজ্ঞেস করা হলে শিবিরের জকসু নেতৃবৃন্দ ও তাদের মতাদর্শী সাংবাদিকেরা স্ট্যাম্প ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। অতর্কিত হামলায় তারা আহত হন।
আরও পড়ুন: বার্মিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রকল্পে সাফল্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় ইউনেস্কো
আহতরা আরও অভিযোগ করেন, সাংবাদিক সমিতির ইস্যুতে শিবির কেন আসবে তা জানিনা। সম্পূরক বৃত্তি নিয়ে জকসুর ব্যর্থতার কারণে এর পূর্বে একাধিক পত্রিকায় সংবাদ এসেছে। সেই সাংবাদিকদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, শিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি ৫ আগস্টের পর নিজেরা দাঁড়িয়ে সমিতির নির্বাচন করে। সেই নির্বাচনে যারা তাদেরপন্থী না, তাদের সবাইকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়। তারপর ডামি নির্বাচন করে ৯ পদের সবগুলোতিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করে সমিতি দখল করে রাখে।
আহত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ বলেন, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে আমাদের প্রায় ৩৫ জন সাংবাদিককে বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ করে মনোনয়ন বিক্রি করছিল। এ সময় আমরা জিজ্ঞেস করলে তারা আমাদের উপর হামলা করে। হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক ও জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এবং ছাত্রশিবির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল হামলার নেতৃত্ব দেন।
আহত বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক মো. মিলন হোসেন বলেন, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে আমাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে গেলে তারা আমাদের উপর লাঠি ও স্ট্যাম্প নিয়ে হামলা চালায়। সমিতির কার্যালয়ে তারা লাঠি ও স্ট্যাম্প লুকিয়ে রেখেছিল। তাদের অতর্কিত হামলায় আমি গুরুতরভাবে আহত হই। আমাকে বুকে আঘাত করা হয়। আমার শ্বাসকষ্টের অসুবিধা থাকায় আমার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।





