নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন আলোচনা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪০ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:৩৮ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ হলে বিষয়টি দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সংস্থাটি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে হয়রানি চরমে, যাত্রীসেবা বেহালদশা

আইএমএফের আশঙ্কা, নতুন পে-স্কেল একযোগে কার্যকর হলে সরকারের রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বাজেট ঘাটতি বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত মাত্রায় না হলে সরকারি ঋণের বোঝাও বাড়তে পারে বলে সংস্থাটি মনে করছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সরকার বিষয়টি দীর্ঘায়িত করতে আগ্রহী নয়। বরং আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার আগেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অর্থনীতিবিদ ও সচিবালয় সূত্রগুলোর মতে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার সরকারি কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশনসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহের শেষদিকে অথবা আগামী সপ্তাহের কোনো মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে, গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী একটি বৈঠকে সচিব কমিটির সুপারিশ, সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়ন কৌশল এবং আইএমএফের পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে-স্কেলসংক্রান্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পে-স্কেল অনুমোদন বা গেজেট প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করেনি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।