বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন

ঘিরে কড়া নজরদারি: মাঠে ২০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ন, ৩১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৬ অপরাহ্ন, ৩১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের স্থগিত সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে দুই নির্বাচনী এলাকায় মোট ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাত দিনের জন্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আসন্ন বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে নির্বাচনী অপরাধের তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য মোট ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি, সাতদিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর আওতায় প্রতি উপজেলা বা নির্বাচনী থানায় ন্যূনতম দুইজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আঞ্চলিক পর্যায়েই আঙুলের ছাপ যাচাই: ভোটার সেবায় বড় স্বস্তি আনছে ইসি

এর ধারাবাহিকতায় ভোটগ্রহণের চার দিন আগে থেকে ভোটের দুই দিন পর পর্যন্ত—অর্থাৎ ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনের জন্য—প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় মোট ১০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। বিশেষ করে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাস্তবতা, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ও অবস্থান, ওয়ার্ড বিন্যাসসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো বা কমানো যেতে পারে। সে অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

প্রার্থীদের চিত্র: 

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান, বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল আলিম তালুকদার।

এই আসনে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান জয়ী হন। তবে একই সঙ্গে দুটি আসনের সংসদ সদস্য থাকার বিধান না থাকায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি বহাল রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নতুন তফসিল দেয় নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর মো. মিজানুর রহমান।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই আসনে একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করে পুনরায় ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নেয় ইসি।


সার্বিকভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বহুমাত্রিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠ পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।