এমপি বহিষ্কারে দলীয় সিদ্ধান্তে ইসির ভূমিকা নেই, স্পিকারের রেফারেন্স পেলে হবে সাংবিধানিক পর্যালোচনা

Sadek Ali
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৬ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দল থেকে কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। এ ধরনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজ উদ্যোগে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স এলে সংবিধান ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করে শুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করার পর তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া আলোচনা-প্রেক্ষাপটে এ অবস্থান তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: সব স্থানীয় নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি পথ চায় ইসি, প্রার্থিতা নিয়ে আসছে নতুন বিধিনিষেধ

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলেই নির্বাচন কমিশন সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে পারে না। এ বিষয়ে সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করতে হবে। স্পিকার যদি কমিশনের কাছে বিষয়টি পাঠান, তাহলে সংবিধান ও বিদ্যমান আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় শুনানি শেষে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটি একটি বিতর্কিত (ডিসপিউটেড) বিষয়। ফলে শুধু দলীয় চিঠির ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের রেফারেন্স ছাড়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঠেকাতে আচরণবিধি বদল বিদ্যমান আইনে নেই

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের অযোগ্যতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করতে হবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও অবহিত করা হবে।

ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর প্রতিবেদন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, তদন্তে বিয়ের আগে সংশ্লিষ্ট নারীর সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাতের তথ্য পাওয়া গেছে, যা দলীয় নীতিমালা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব কারণ বিবেচনায় তাঁর সদস্যপদ (রুকনিয়্যত) বাতিলের পরিবর্তে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তিনি জানান, গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং সংসদ সদস্য পদের সাংবিধানিক বৈধতা এক বিষয় নয়। সংসদ সদস্যের পদ বহাল থাকবে কি না, সে প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া, স্পিকারের রেফারেন্স এবং নির্বাচন কমিশনের আইনগত পর্যালোচনার ওপর।