উত্তম-সুপ্রিয়ার প্রেম
যে প্রেম রূপকথাকেও হার মানায়
রুপালি পর্দার রোমান্সকে পেছনে ফেলে বাস্তব জীবনের যে প্রেম রূপকথাকেও হার মানায়, তা হলো মহানায়ক উত্তম কুমার এবং কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর প্রেমগাথা। উত্তম কুমারের বয়স যখন মাত্র ১৯ বছর, তখন প্রথম তাঁকে দেখেছিলেন সুপ্রিয়া দেবী। ভাইয়ের বন্ধু উত্তম তখন ছিলেন পাড়ার পরিচিত মুখ, করতেন মঞ্চনাটক। তবে তখনো কথা বলা কিংবা পরিচয়ের পথ সুগম হয়নি।
পরবর্তী সময়ে সুপ্রিয়ার পরিবার কলকাতায় চলে আসে। 'বসু পরিবার' চলচ্চিত্রের সেটে প্রথম মুখোমুখি হন তাঁরা। এর মধ্যেই নিজ নিজ জীবনে বন্ধনে আবদ্ধ হন দুজনেই; গৌরী চট্টোপাধ্যায়ের সাথে উত্তম এবং বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির সাথে সুপ্রিয়ার বিয়ে হয়। তবে দুই সংসারের কোনোটিতেই ছিল না সুখ বা শান্তি। ১৯৫৪ সালে বিশ্বজিতের সাথে বিচ্ছেদ ঘটে সুপ্রিয়ার। অন্যদিকে প্রথম স্ত্রী গৌরীর সাথে আইনি বিচ্ছেদ না হলেও উত্তম কুমারের মনে বিরাজ করছিল এক গভীর মানসিক ক্লান্তি ও যাতনা।
আরও পড়ুন: জামিন মেলেনি চিত্রনায়ক রিয়াজের
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগ্রহে 'আম্রপালী' চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন সুপ্রিয়া। সেই অভিনয়ের সুখ্যাতি উত্তম কুমারের কানে পৌঁছালে একে একে 'উত্তর মেঘ', 'সোনার হরিণ' ও 'শুন বরনারী'র মতো একাধিক সিনেমায় জুটি বাঁধেন তাঁরা। পর্দার কেমিস্ট্রি ধীরে ধীরে গড়ায় ভালোবাসায়। উত্তমের নিজের লেখা 'আমার আমি' বইতে তিনি স্বীকার করেছেন, সুপ্রিয়া দেবীর যত্ন আর মমতায় কীভাবে তিনি জীবনের সব যাতনা ভুলে শান্তির আশ্রয় পেয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: সালমানকে বুড়ো বলে কটাক্ষ নেটিজেনদের

সুপ্রিয়া দেবী তাঁর 'আমার জীবন আমার উত্তম' বইয়ে উল্লেখ করেন, ১৯৬২ সালের ২ ডিসেম্বর ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি মেনে জীবনের বাঁধনে বাঁধা পড়েছিলেন তাঁরা। যদিও গৌরীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না থাকায় সেই বিয়ের আইনি বৈধতা নিয়ে সমাজ ও চলচ্চিত্র পাড়ায় ওঠে সমালোচনার ঝড়। উত্তম কুমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরিচালক শ্যামল মিত্র পর্যন্ত সুপ্রিয়াকে মেনে নিতে না পেরে শুটিং বন্ধের হুমকি দিয়ে উত্তমকে ভবানীপুরের ঘরে ফিরে যেতে বলেন। তখন মহানায়ক কেবল একটি কথাই বলেছিলেন, “এখনই বেণুকে (সুপ্রিয়া) ছেড়ে যেতে পারব না, একটু সময় দে আমায়।”
যাবতীয় জল্পনা-কল্পনা ও কটাক্ষকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টানা ১৭ বছর একসাথে একই ছাদের নিচে কাটান এই জুটি। ১৯৮০ সালে মহানায়কের অকালপ্রস্থানের পর, জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত সেই ভালোবাসার মিষ্টি স্মৃতি আঁকড়েই বেঁচে ছিলেন সুপ্রিয়া দেবী।





