‘৯৬’ সিনেমায় তৃষার বদলে জ্যোতিকাই কি ছিলেন পরিচালকের প্রথম পছন্দ?
বিজয় সেতুপতি ও তৃষা কৃষ্ণান অভিনীত তামিল সিনেমা ‘৯৬’ মুক্তির আট বছর পরও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়। প্রথম প্রেম, পুরোনো স্মৃতি ও অসমাপ্ত সম্পর্কের আবেগঘন গল্পের সিনেমাটি ৯ অক্টোবর তৃতীয়বারের মতো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। এ উপলক্ষে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির নির্মাণ, জনপ্রিয়তা ও অভিনয়শিল্পী নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন পরিচালক সি প্রেম কুমার।
‘৯৬’ সিনেমায় জানু চরিত্রে তৃষার পরিবর্তে জ্যোতিকাকে প্রথমে ভাবা হয়েছিল—এমন খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিষয়টি স্পষ্ট করে পরিচালক জানিয়েছেন, চরিত্রটির জন্য তাঁর প্রথম পছন্দ ছিলেন তৃষাই। প্রেম কুমার বলেন, তৃষার শিডিউল নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সে সময় অভিনেত্রী একাধিক সিনেমার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে, বিজয় সেতুপতির শিডিউল তাঁর হাতে থাকায় জানু চরিত্রে অন্য কাউকে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে চাপও ছিল। পরে তৃষার শিডিউল পুনর্বিন্যাস করা হয় এবং বিজয় সেতুপতির সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর সময় ঠিক করা সম্ভব হয়। শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: অ্যাকাডেমি মিউজিয়ামের গালায় গাইবেন টেইলর সুইফট
পরিচালক জানান, চিত্রনাট্য লেখার সময় থেকেই রাম ও জানু চরিত্রে বিজয় সেতুপতি ও তৃষাকে কল্পনা করেছিলেন তিনি। এমনকি শুরুতে নিজের লেখা চিত্রনাট্য অন্য কোনো পরিচালকের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেই সিনেমাটি পরিচালনা করেন।
২০১৮ সালে মুক্তির পর ‘৯৬’ দর্শকের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছে, তা এখনো তাঁকে বিস্মিত করে বলে জানান প্রেম কুমার। সিনেমাটির প্রতিটি বার্ষিকীতে পোস্টার প্রকাশ করেন তিনি। দুই বছর, তিন বছর কিংবা আট বছর—প্রতিবারই দর্শকের ভালোবাসা তাঁকে অভিভূত করেছে।
আরও পড়ুন: হঠাৎ কানাডার পুলিশের পোশাকে জায়েদ খান, কেন?
পরিচালক আরও জানান, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চেন্নাইয়ের বন্যার সময় তিনি ‘৯৬’-এর চিত্রনাট্য লেখেন। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নয়, বরং এক বন্ধুর ছোটবেলার প্রেমের গল্প থেকে তিনি সিনেমাটির আবেগ উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর মতে, কোনো বিষয় নিয়ে লিখতে হলে সেটি নিজে অনুভব করার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়; বরং সেই অনুভূতির সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
সিনেমাটিতে রাম ও জানুর সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ তুলে ধরার পেছনে নিজের পারিবারিক পরিবেশেরও প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন প্রেম কুমার। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের অনেক নারীর সঙ্গে বেড়ে ওঠায় নারীদের অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
সিনেমার সাফল্য নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পরিচালক। তাঁর মতে, একটি সিনেমা দর্শকের হাতে তুলে দেওয়ার পর নির্মাতার কাজ শেষ। বক্স অফিসে কত আয় হবে কিংবা কত দিন সিনেমাটি চলবে, তা নিয়ে তিনি প্রত্যাশা রাখতে চান না। একই সঙ্গে ভাগ্যের চেয়ে পরিশ্রম ও চেষ্টাকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।
‘৯৬’-এর তৃতীয়বারের মতো প্রেক্ষাগৃহে ফেরার দিনে সিনেমাটি আবার বড় পর্দায় দেখার ইচ্ছা থাকলেও ভ্রমণের কারণে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন প্রেম কুমার। ২০১৮ সালে প্রথম মুক্তির সময় সিনেমাটি দেখে যে আনন্দ পেয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা আবারও ফিরে পেতে চেয়েছিলেন তিনি।





