ঐতিহাসিক সফরে ভারতে এলেন আফগান পররাষ্টমন্ত্রী!

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ৩:২৯ অপরাহ্ন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বৃহস্পতিবার ভারতে পৌঁছেছেন, যা ২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতায় ফেরা থেকে কোনো শীর্ষস্থানীয় তালেবান নেতার ভারতে প্রথম সফর।

মুত্তাকির এই সফরটি সম্ভব হয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুমতি পাওয়ার পর। এই সফরটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান, কারণ নয়াদিল্লি ধীরে ধীরে তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন: জাপানে আফগান দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধির জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে তার (মুত্তাকি) সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার প্রত্যাশা করছি।

 তিনি তাকে ‘উষ্ণ অভ্যর্থনা’ জানান।মুত্তাকি জানুয়ারিতে দুবাইয়ে ভারতের শীর্ষ কূটনীতিক বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবার তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন।

আরও পড়ুন: আজই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, লক্ষ্য সরকার পতন

যদিও উভয় পক্ষই বৈঠকের সূচি প্রকাশ করেনি, বিশ্লেষকরা মনে করেন বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে — যদিও ভারত আপাতত তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেবে না।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রভীন দোন্থি বলেন, ‘নয়াদিল্লি কাবুলে নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী… এবং চীন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে পিছিয়ে থাকতে চায় না।’

মুত্তাকির এই সফরের আগে তিনি রাশিয়ায় বৈঠক করেছেন—যা এখন পর্যন্ত তালেবান প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া একমাত্র দেশ।

তবে দোন্থি বলেন, তালেবান ‘কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করছে।’ যদিও তা এখনো অনেক দূরের পথ।

ভারতের সাবেক কাবুল রাষ্ট্রদূত রাকেশ সূদ বলেন, ‘ভারত তালেবানকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিতে কোনো তাড়াহুড়ো করছে না।’

ভারত দীর্ঘদিন ধরে ১০ হাজারেরও বেশি আফগান নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে, যাদের অনেকে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পর দেশ ছেড়েছে।

২০২৩ সালে আফগানিস্তানের নয়াদিল্লি দূতাবাস বন্ধ হয়ে যায়, যদিও মুম্বাই ও হায়দরাবাদের কনস্যুলেটগুলো সীমিত পরিসরে সেবা দিচ্ছে।