বিক্ষোভকারীদের গুলি করতে অস্বীকৃতি: ইরানে তরুণ সেনার মৃত্যুদণ্ড
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগে এক তরুণ সেনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি মানবাধিকার সংগঠনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। খবর স্কাই নিউজের
নিউইয়র্কভিত্তিক সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান জানিয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য জাভিদ খালেসকে মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে সহকর্মী সেনাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: কাউন্টারটেররিজম প্রধানের পদত্যাগে ভালো হয়েছে: ট্রাম্প
মানবাধিকার সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ পেলে খালেস তা কার্যকর করতে অস্বীকার করেন। এর পরপরই তাকে আটক করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
আইএইচআরএস আরও বলেছে, “একজন সেনা মানুষ হত্যার নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বিচারব্যবস্থাকে নিছক আনুগত্য নিশ্চিতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ। এর মাধ্যমে বিক্ষোভ দমন আরও জোরদার করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: ন্যাটো মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের ক্ষোভ, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ারি
সংগঠনটি খালেসের মামলার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশের জন্য ইরান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য এখনো অত্যন্ত সীমিত।
এই রায়ের খবর এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বিক্ষোভের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শাস্তি কার্যকর করা হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ আবারও জানায়, বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ড ‘মোহারেব’—অর্থাৎ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, ইরান সরকার শতাধিক বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তবে এরপর থেকেই দেশটিতে ভিন্নমত দমনে নতুন করে অভিযান শুরুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা সম্প্রতি বিক্ষোভকারীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তা না হলে আরও কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
আইএইচআরএস সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ না হলে শিগগিরই তড়িঘড়ি ও বিচারবহির্ভূত শাস্তি কার্যকর করা হতে পারে।





