ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ফ্লাইট স্থগিত, দুবাই ও ইসরায়েল রুট বন্ধ

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৪ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউরোপের অন্তত দুটি বড় বিমান সংস্থা—এয়ার ফ্রান্স ও কেএলএম—এই অঞ্চলের একাধিক গন্তব্যে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা আপাতত দুবাইয়ে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখবে। সংস্থাটি বলেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

আরও পড়ুন: ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করলো সৌদি আরব

শুক্রবার এক বিবৃতিতে এয়ার ফ্রান্স বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কোম্পানি সাময়িকভাবে দুবাই রুটে ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ফ্লাইট সূচি নিয়ে পরবর্তীতে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।

আরও পড়ুন: তেল আবিবে ইরানের শক্তিশালী হামলা: পাল্টা অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে টার্গেট ইসরায়েলের

ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশেও ফ্লাইট বন্ধ কেএলএমের

এদিকে নেদারল্যান্ডসের বিমান সংস্থা কেএলএম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের একাধিক শহরে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনওএস জানায়, কেএলএম তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম ও রিয়াদে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। একই সঙ্গে ইরাক, ইরান, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

তবে ফ্লাইট স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি কেএলএম। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ডাচ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

মার্কিন নৌবহর পাঠানোর ঘোষণার পর পরিস্থিতি জটিল

এই ফ্লাইট বিঘ্নের ঘটনা ঘটল এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানকে লক্ষ্য করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে একটি বড় মার্কিন নৌবহর—যাকে তিনি আর্মাডা হিসেবে উল্লেখ করেছেন—পাঠানো হচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানকে নজরে রাখছি। প্রয়োজন হলে ব্যবহারের জন্য অনেক জাহাজ ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। ইরানের দিকে একটি বড় শক্তি অগ্রসর হচ্ছে।

সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও, এই নৌবহর পাঠানোর ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।