পাকুন্দিয়ায় পাগলা শিয়ালের কামড়ে আহত ৫, পরে পিটিয়ে হত্যা
সম্প্রতি পাগলা কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নতুন আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে একটি পাগলা শিয়াল। উপজেলার নারান্দী ও কুমারপুর গ্রামে শিয়ালটির হামলায় নারী ও শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে পৃথক সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন কুমারপুর গ্রামের জুনায়েদ মিয়ার দুই বছরের কন্যা ওয়াজিহা, নারান্দী গ্রামের রইছ উদ্দিনের স্ত্রী কুলসুম (৫৫), তাইজুদ্দিনের ছেলে সিয়াম (৪), মিলন মিয়ার ছেলে আজিম উদ্দিন (৬১) এবং মুর্শিদ মিয়ার স্ত্রী সালমা আক্তার (৪৭)।
আরও পড়ুন: বালিকা ক্রিকেট দলের সাফল্যে সংবর্ধনা, জাতীয় পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা
স্থানীয়রা জানান, একটি শিয়াল বিকেল থেকে গ্রাম দুটিতে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে এটি বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে ও বসতঘরের সামনে থাকা লোকজনের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। শিয়ালের কামড়ে কয়েকজন আহত হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে শিয়ালটিকে ধাওয়া করে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
আহতদের দ্রুত পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে রোগীকে মারধরের অভিযোগে হাসপাতালের চিকিৎসককে সাময়িক অব্যাহতি
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান বলেন, “শিয়ালের কামড়ে আহত পাঁচজনই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাগলা কুকুরের কামড়ে বহু মানুষ আহত হওয়ার পর থেকেই জনমনে উদ্বেগ ছিল। এরই মধ্যে পাগলা শিয়ালের হামলার ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বন্য প্রাণীর এমন অস্বাভাবিক আচরণের কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





