বলিভিয়ায় টাকা ভর্তি সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৫

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:০৪ অপরাহ্ন, ০১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজের কাছে দেশটির জাতীয় মুদ্রা বোঝাই একটি সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। বিমানটি মহাসড়কে পড়ে একাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বলিভিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী  মার্সেলো স্যালিনাস এক বিবৃতিতে জানান, নতুন ছাপানো বলিভিয়ান বলিভিয়ানো নোট বহনকারী একটি হারকিউলিস সি-১৩০ কার্গো উড়োজাহাজ এল আলতো বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল। অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে নিকটবর্তী মহাসড়কে আছড়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।

আরও পড়ুন: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ৮ জন নিহত, কয়েক ডজন আহত

দুর্ঘটনার পর দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক বিবৃতিতে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ দুই ক্রু

আরও পড়ুন: মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি আইআরজিসির

বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস প্রধান পাভেল তোভার সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কতজন বিমানকর্মী এবং কতজন সড়কে থাকা গাড়ির আরোহী—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

বলিভিয়ার বিমান বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল সার্জিও লোরা জানান, কার্গো বিমানটিতে মোট ছয়জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে, বাকি দু’জন এখনও নিখোঁজ। বিমানটি পূর্বাঞ্চলীয় শহ রসন্তা ক্রুজ থেকে এল আলতোতে যাচ্ছিল।

১৫টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, ছড়িয়ে পড়ে নোট

বিমান মহাসড়কে পড়ায় অন্তত ১৫টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিধ্বস্ত বিমানের ভেতর থাকা নোট চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু মানুষ সেগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা

বলিভিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড এপিনোজা জানিয়েছেন, ছড়িয়ে পড়া নোটগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধ মুদ্রা নয়। কারণ সেগুলোতে সিরিয়াল নম্বর সংযোজন করা হয়নি। তার ভাষায়, “নোটগুলো এখনও পূর্ণাঙ্গ মুদ্রা হিসেবে প্রস্তুত হয়নি। সিরিয়াল নম্বর বসানোর জন্যই সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আনা হচ্ছিল।”

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।