ইরানের পাশে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, ০৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, ০৬ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে একক ফ্রন্টে লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর এক সদস্য বলেছেন, সানা ইতোমধ্যেই ঘোষিত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম *দ্য ক্র্যাডল*-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য আলি আল-ইমাদ বলেন, ইয়েমেনি বাহিনী নেতৃত্বের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তারা প্রতিশোধমূলক অভিযানে সরাসরি যোগ দিতে পারে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে ইরানের ক্লাস্টার ব্যালাস্টিক মিসাইল

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে হামলার পরও কেন সানার বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে নামেনি—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রস্তুতি পুরোপুরি রয়েছে। তবে যেকোনো পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, আনসারুল্লাহর নেতা সাইয়্যেদ আবদুল মালিক আল-হুথি সংঘাতের প্রথম দিন থেকেই যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘মার্কিন স্থল হামলা নিয়ে ইরানের কঠোর হুমকি’

আল-ইমাদ বলেন, “আমরা নিজেদের ইতোমধ্যেই যুদ্ধাবস্থায় মনে করি। তবে কখন এবং কোথায় সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নেওয়া হবে, তা নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা সবাই একই ফ্রন্টে আছি এবং শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবেই লড়াই করছি।”

তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনের অবস্থান পারস্য উপসাগরীয় কোনো দেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। তার মতে, এটি আরব বা মুসলিমদের মধ্যে সংঘাত নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও তার আঞ্চলিক ভূমিকার বিরুদ্ধে লড়াই।

আল-ইমাদ বলেন, “ইরানের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব। কারণ ইরান এমন এক প্রকল্পের বিরুদ্ধে লড়ছে, যা পুরো অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে—সেটি ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ হোক বা ‘নিউ মিডল ইস্ট’ পরিকল্পনা।”

তিনি জানান, ইয়েমেনের সামরিক কৌশল ধাপে ধাপে উত্তেজনা বাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ২০২৩ সালে গাজাকে সমর্থন দেওয়ার সময়ও অনুসরণ করা হয়েছিল।

এদিকে সাম্প্রতিক হামলার জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু ও মার্কিন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। একই সময়ে ইরাকের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

বুধবার হিজবুল্লাহ ও ইরান প্রথমবারের মতো যৌথভাবে ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা আঞ্চলিক সামরিক সমন্বয়ের নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে।