হিজবুল্লাহ-ইসরাইল সংঘাতে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের চলমান সংঘাতের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে লেবানন। দীর্ঘদিনের সংঘাতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগকে উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার লেবাননের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে দেশটিতে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক উত্তেজনা লেবাননের পরিস্থিতিকেও আরও জটিল করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে কাঠমান্ডুতে ১৫ বাংলাদেশিসহ ১৯ জন গ্রেপ্তার
ওয়াশিংটনে লেবাননের দূতাবাস জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তবে এর আওতায় ইসরাইলকে হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত বৈরুত ও আশপাশের এলাকায় হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহও ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আংশিক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে প্রথমে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে বিদেশিদের জন্য ভিসা নিয়মে বড় পরিবর্তন
তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর বক্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সেখানে ইসরাইলি বাহিনীর কার্যক্রম চলবে।
এদিকে হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ লেবাননের পার্লামেন্ট সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির পক্ষে রয়েছে তাদের পক্ষ। তবে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লেবানন সরকার জানিয়েছে, বুধবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় যুদ্ধবিরতির পরিধি আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
এদিকে ইরানও লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচি বলেছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।





