ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও খারাপ অবস্থায়: ওবামা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, ২০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, ২০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শিকাগোতে ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টার উদ্বোধনের প্রাক্কালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, যুদ্ধের পেছনে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু এত বড় মূল্য চোকানোর পরও যুক্তরাষ্ট্র কার্যত আগের অবস্থানেই ফিরে এসেছে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে ৬০ দিনের জন্য ফি মওকুফ করল ইরান

তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ শুরুর আগের জায়গাতেই ফিরে এসেছি। বরং বলা যায়, পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ।”

ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ওবামা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) বাতিলের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন। তার মতে, ওই চুক্তি কার্যকর থাকলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় তেহরান আরও বেশি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছে হিজবুল্লাহ-ইসরাইল: রয়টার্স

অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, নতুন শান্তি পরিকল্পনার ইতিবাচক ফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রচলিত সামরিক শক্তি দুর্বল হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তবে কূটনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত হওয়ায় পরবর্তী আলোচনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সময়ে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যৎ যেকোনো আলোচনায় তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ মেনে চলতে হবে, অন্যথায় কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক তেলবাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি কোম্পানি এক্সন মবিলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল চ্যাপম্যান সতর্ক করে বলেছেন, কৌশলগত মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওবামা। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী রাখতে নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে উঠতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।