প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩১ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪২ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হারানো অতীত প্রতিশোধের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশ গঠনে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ২৬ জুন পালিত হবে পবিত্র আশুরা

ব্যক্তিগত জীবনের নানা ত্যাগ ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কারাবাসের সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে এখনও তিনি শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তবে প্রতিশোধ কোনো সমাধান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে যা হয়েছে, প্রতিশোধ নিলেও তা আর ফিরে পাব না। তাই প্রতিহিংসার পথ ছেড়ে দেশের জন্য কী করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে ভাবতে হবে।”

তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: স্কুল পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সংবাদপত্রের কালো দিবসের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকিগুলোর প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমান সরকারও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একা সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক পরামর্শ রাষ্ট্র পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

তরুণ সমাজের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যুবশক্তিকে ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি শিক্ষা বিভাগীয় আয়োজনে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি।

সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জীবন্ত মানুষকে পিটিয়ে হত্যার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করার মতো ঘটনা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের সংকটকে স্পষ্ট করে।” এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্কুল পর্যায় থেকেই সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব গ্রহণের পর কাজের চাপ ও জনগণের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও সক্ষমতার মধ্যেও সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। কাজের ব্যাপকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেক সময় মনে হয় ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে দিন যদি ৪৮ ঘণ্টার হতো, তাহলে দেশের জন্য আরও বেশি কাজ করা যেত।”

মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রেস সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।