সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৩২ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩২ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান ও সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে মোট ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি অর্থ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে হাসানুল হক ইনুর আপিল

ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ পাওয়া অন্য ব্যক্তিরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও মনিরুল ইসলামের স্ত্রী সায়লা ফারজানা, মনিরুল ইসলামের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা।

এর আগে, দুদকের পক্ষে উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মোজাম্মিল হোসেন তাঁদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন।

আরও পড়ুন: মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

আবেদনে বলা হয়, মনিরুল ইসলামের নামে থাকা ১১টি ব্যাংক হিসাবে ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টাকা ও ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড রয়েছে। তাঁর স্ত্রী সায়লা ফারজানার পাঁচটি হিসাবে রয়েছে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা। মনিরুলের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি হিসাবে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার ২৭টি হিসাবে রয়েছে ৮ কোটি ২২ লাখ ৫১ টাকা।

দুদকের অভিযোগ, পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা লোপাট, জঙ্গিবাদের তকমা দিয়ে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের এনজিওর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের ঘটনা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তা ভোগদখলে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে সংগৃহীত নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব হিসাবের অর্থ উত্তোলন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট অর্থ ও সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা হলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।