নিবন্ধন করতে হবে যেভাবে
সর্বজনীন পেনশন নিয়ে যে ১১ প্রশ্নের উত্তর জেনে রাখা জরুরি
দেশের নাগরিকদের পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি (স্কিম) চালু করছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু সর্বজনীন পেনশন স্কিম আসলে কী বা কীভাবে কাজ করবে- এ ধরনের প্রশ্ন যে কারো মনে আসতে পারে। ইউনিপেনশন ওয়েবসাইটে দেওয়া এমন ১১টি প্রশ্নের উত্তর জেনে নিন।
আরও পড়ুন: দুদক পুনর্গঠনে বাছাই কমিটির প্রথম সভা আজ
১. সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা কি সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশ নিতে পারবে?
সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন জারির আগে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা সরকারি পেনশন স্কিমে অংশ নিতে করতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: সংসদে সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) বিল পাস, এআই-তৈরি ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে কঠোর বিধান
২. পেনশন স্কিমে মুনাফাসহ বছরে কত টাকা জমা হলো তা কীভাবে জানা যাবে?
চাঁদাদাতা তার পেনশন আইডি দিয়ে ইউনিভার্সাল পেনশন সিস্টেমে প্রবেশ করে সহজেই বছর শেষে মুনাফাসহ জমা হওয়া টাকার পরিমাণ সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারবেন।
৩. চাকরি পরিবর্তন করলে নতুন পেনশন নম্বর নিতে হবে কি না?
চাকরি পরিবর্তন করলে নতুন পেনশন নম্বর গ্রহণ করতে হবে না। শুধু জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
৪. চাঁদাদাতার বয়স ৬০ বছর হওয়ার পর তিনি কীভাবে পেনশন পাবেন?
চাঁদাদাতার বয়স ৬০ বছর হওয়ার পর তার ব্যাংক হিসাবে অথবা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মাসিক পেনশন দেওয়া হবে।
৫. শুধু অনলাইনে নিবন্ধন করলেই পেনশন স্কিমে অংশ নেওয়া যাবে, নাকি হার্ড কপি জমা দিতে হবে?
হার্ড কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। শুধু অনলাইনে নিবন্ধন করে মাসিক টাকা জমা দিলেই হবে।
৬. গৃহিণীরা কোন স্কিমে অংশ নিতে পারবেন?
গৃহিণীরা স্বকর্মে নিয়োজিতদের জন্য প্রযোজ্য সুরক্ষা স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।
৭. প্রবাস স্কিমে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করার পর কত দিনের মধ্যে এনআইডি জমা দিতে হবে?
এনআইডি তৈরিতে যুক্তিগতভাবে সে সময়ের প্রয়োজন হবে, সেই সময়কালের মধ্যে এনআইডি জমা দিতে হবে।
৮. জাতীয় পেনশন স্কিমের যাবতীয় ব্যয় কি স্কিমে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জমানো টাকা দিয়ে মেটানো হবে?
না, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের যাবতীয় ব্যয় সরকার বহন করবে।
৯. কোনো ব্যক্তির কাছে মাসিক চাঁদার টাকা নগদ দেওয়া যাবে কি না?
না, কোন ব্যক্তির কাছে চাঁদার টাকা নগদ জমা দেওয়া যাবে না। ব্যাংক, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে চাঁদার টাকা জমা দেওয়া যাবে।
১০. পেনশন স্কিমে জমা হওয়া টাকার গ্যারান্টর কে হবেন?
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকারই জমা টাকার গ্যারান্টর।
১১. চাঁদাদাতা, নমিনি বা নমিনিরা মেয়াদ পূর্তির আগে মারা গেলে জমা টাকা কে পাবেন?
সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত ও উত্তরাধিকার সনদের ভিত্তিতে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে জমা টাকা মুনাফাসহ তাকে বা তাদের দেওয়া হবে।
সর্বজনীন পেনশন পেতে নিবন্ধন করতে হবে যেভাবে
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে গেলে পেনশন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে প্রথমেই একটি পাতা আসবে, সেখানে লেখা থাকবে, ‘প্রত্যয়ন করছি যে আমি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নই। সর্বজনীন পেনশন স্কিমবহির্ভূত কোনো ধরনের সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধা গ্রহণ করি না। আমি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কোনো ধরনের ভাতা গ্রহণ করি না।’
এরপর ‘আমি সম্মত আছি’ অংশে ক্লিক করলে দ্বিতীয় পাতায় গিয়ে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। এখানে আবেদনকারীকে প্রবাস, সমতা, সুরক্ষা বা প্রগতি- এই চার স্কিমের মধ্য থেকে প্রযোজ্য স্কিম বাছাই করতে হবে। একই সঙ্গে ১০, ১৩ বা ১৭ সংখ্যার এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর, ইমেইল আইডি লিখে দিতে হবে।
এবার পাতার নিচের দিকে থাকা ক্যাপচা লিখে পরের পাতায় যেতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্যের পাতা আসবে। ব্যক্তির এনআইডি অনুযায়ী এনআইডি নম্বর, ছবি, আবেদনকারীর বাংলা ও ইংরেজি নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে (যেহেতু আগের পাতায় এ তথ্যগুলো দেওয়া আছে)।
এখানে আবেদনকারীর বার্ষিক আয় লিখতে হবে এবং পেশা, নিজ বিভাগ, জেলা ও উপজেলার নাম নির্বাচন করতে হবে। পেশা বাছাইয়ের ঘরে শিক্ষক, বেসরকারি চাকরিজীবী, ছোট ব্যবসায়ী, ব্যবসা, দিনমজুর, আইনজীবী, সাংবাদিক ইত্যাদি পেশার উল্লেখ আছে। সেখান থেকে নিজের পেশা নির্বাচন করতে হবে। সব লেখা সম্পন্ন হলে পরের ‘স্কিম তথ্য’ পাতায় যেতে হবে।
স্কিম তথ্যের পাতায় এলে সেখান থেকে মাসিক চাঁদার পরিমাণ ও চাঁদা পরিশোধের ধরন বাছাই করতে হবে। চাঁদা পরিশোধের ধরনের মধ্যে মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক- এ তিন অপশন রয়েছে। এরপর ব্যাংক তথ্যের ধাপে যেতে হবে।
ব্যাংক তথ্যের পাতায় আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবের নাম ও নম্বর, হিসাবের ধরন (সঞ্চয়ী অথবা চলতি), রাউটিং নম্বর, ব্যাংকের নাম ও ব্যাংকের শাখার নাম লিখতে হবে। এরপর নমিনি তথ্যের পাতায় নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে নমিনিকে যুক্ত করতে হবে। এ সময় নমিনির মোবাইল নম্বর, নমিনির সঙ্গে সম্পর্ক, নমিনির প্রাপ্যতার হারের (একাধিক নমিনি হলে) তথ্য দিয়ে সর্বশেষ ‘সম্পূর্ণ ফরম’ ধাপে যেতে হবে।
এটিই নিবন্ধনের শেষ ধাপ। এ ধাপে আগে পূরণ করা ব্যক্তিগত তথ্য, স্কিম তথ্য, ব্যাংক তথ্য ও নমিনি তথ্য দেখানো হবে। সেখানে কোনো ভুল থাকলে আবার শুরু থেকে গিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। আর সব তথ্য ঠিক থাকলে তাতে সম্মতি দিয়ে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এ সময় চাইলে সম্পূর্ণ আবেদনটি ডাউনলোডও করতে পারবেন আবেদনকারী।
বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইন ফরম পূরণ অথবা সরাসরি সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গিয়ে নিবন্ধন করা যাবে এবং চাঁদা দেয়া যাবে। মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও চাঁদা দেওয়া যাবে। জানা গেছে, চারটি স্কিমের জন্য আলাদা চারটি হিসাব খোলা হয়েছে সোনালী ব্যাংকে। এ হিসাবগুলোতে চাঁদা জমা হবে। সোনালী ব্যাংক দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরে অন্য ব্যাংকও যুক্ত হবে।
সোনালী ব্যাংকে কারও হিসাব থাকুক বা না থাকুক, নির্ধারিত ফরম পূরণ করে এ ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কেউ পেনশন স্কিমের চাঁদা দিতে পারবেন বলে সোনালী ব্যাংক জানিয়েছে।





