চাকসু পরাজিত ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী শাফায়াতের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীকে মারধর

Sanchoy Biswas
মো. সাবিত বিন নাছিম, চবি
প্রকাশিত: ৫:৫৮ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৫ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পূর্ববিরোধের জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইএমএল বিভাগের সাজিদ হাসান আলভি নামে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবদুর রব হলের পেছনের সড়কের একটি ব্রিজের গোড়ায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আলভি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন। হামলার পর আহত সাজিদ হাসান আলভিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। চমেকের ইমার্জেন্সি বিভাগ থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ‘হিস্ট্রি অব ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট’ উল্লেখ করে পুলিশ কেসের যাবতীয় দিকনির্দেশনা দেন।

ভুক্তভোগী সাজিদ হোসেন আলভির ভাষ্যমতে, ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আবদুর রব হলের ঝুপড়িতে নারী সহপাঠীর সঙ্গে ভাত খাওয়ার সময় সামান্য কথাকাটাকাটি ও তর্কের জের ধরে সাজিদ হাসান আলভির সঙ্গে জাকিরসহ কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে ওই দিন রাত ১১টার দিকে শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের পেছনে জাকির প্রায় ৩০-৪০ জনের একটি দল নিয়ে এসে আলভিকে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেন। এ সময় ফিলোসফি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শিশির, জাকিরকে সঙ্গে নিয়ে আলভিকে ডেকে আনেন এবং বিষয়টি সমাধানের কথা বলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি: আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তিন নেতা

পরদিন ১৫ আগস্ট রাত ১টার দিকে ফিলোসফি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহবুব এবং সোশিওলজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হুমায়ুন কবির বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আলভিকে শহীদ আবদুর রব হলের পেছনের ব্রিজের গোড়ায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই লাঠিসোঁটা নিয়ে ৩০-৪০ জনের একটি দল অবস্থান করছিল।

ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর আলভিকে ঘিরে ধরে আগের বিরোধের বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু করা হয়। একপর্যায়ে জুওলোজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তুষার সরাসরি ‘হিট কর’ বলে উসকানি দেন। উসকানি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জুওলোজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জাকির, তুষার, বর্ষণ এবং জুওলোজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের জোবায়ের, আসলাম ও সায়েম আলভির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং বেধড়ক মারধর করেন।

আরও পড়ুন: ঢাবি রোভার স্কাউট গ্রুপের বার্ষিক তাঁবুবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু

ঘটনার সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের পরাজিত জিএস প্রার্থী মো. শাফায়েত হোসেন ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আলভির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "যখন মৌমাছির মতো সবাই আমার উপর হামলা করতেছিল তখন ওইখানে শাফায়েত ভাই ছিল, আমি ওনার কাছে কান্নারত অবস্থায় বারবার সাহায্য চাইলেও তিনি ওইখানে স্ট্যাচুর মতো দাঁড়ায় ছিল।"

এ ঘটনায় মারধরের সময়ে ঘটনাস্থলে শাফায়েত হোসেনের উপস্থিতি এবং জড়িত থাকার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।

এছাড়াও ভুক্তভোগী উপস্থিত হামলাকারী কয়েকজনকে শনাক্ত করেন এবং তারা হলেন, জাকির (জুওলজি ২৩-২৪), বর্ষণ (জুওলজি ২৩-২৪), তুষার (জুওলজি ২৩-২৪), জুবায়ের (জুওলজি ২২-২৩), সায়েম (জুওলজি ২২-২৩) এবং তাদের অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইকোলজি ২২-২৩ সেশন ও ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন নাইম। শাফায়েত হোসেনসহ উল্লেখিত অন্যান্যরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিনের গ্রুপ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলেই বিশ্ববিদ্যালয় মহলে পরিচিত।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন জানান, "গতকাল রাতে একটা ঘটনা ঘটে, আমি বাইরে ছিলাম। নিয়মিত রাউন্ডের সময় এরকম একটা মারধরের ঘটনা জানতে পারি যে আইএমএল ২৩-২৪ সেশনের এক শিক্ষার্থীকে জুলজি ডিপার্টমেন্টের কিছু ছেলে মারধর করেছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজের গাড়ি দিয়ে মেডিকেলে পাঠাই। তার অভিভাবকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, "আমি তাকে বলেছি যেহেতু তার কাছে যথেষ্ট ডকুমেন্টস রয়েছে সেক্ষেত্রে সে পুলিশ কেসও করতে পারে অথবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করতে পারে। আমরা মৌখিকভাবে অবগত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।"

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের পরাজিত জিএস প্রার্থী শাফায়েত হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।